প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৫৬
শহরবাসীতে সম্পৃক্ত করে সমস্যা সমাধানের তাগিদ সংসদ সদস্যের
সু.খবর ছবি
সামান্য বৃষ্টিতেই ভয়াবহ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ছে সুনামগঞ্জ পৌর শহর। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই সমস্যায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শহরের হাজার হাজার বাসিন্দাকে। রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বাজার ও আবাসিক এলাকায় পানি জমে থাকায় ভারী বৃষ্টি হলেই স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের জন্য এই ভোগান্তি এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। শনিবার সকালেও ভারী বৃষ্টিতে শহরের অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিস, স্কুল এবং জরুরি কাজে বের হওয়া শহরবাসী। বেলা সাড়ে ১১ টায় জনভোগান্তি সরেজমিনে দেখে পৌর কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নেবার তাগিদ দিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য। এসময় পৌর প্রশাসক অসিম কুমার বণিকও উপস্থিত ছিলেন।
গেল ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ শহরে ২৬০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমলেও শহরের বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা লেগে থাকে দীর্ঘক্ষণ।
সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের শান্তিবাগ, নতুন পাড়া, কাজির পয়েন্ট, নবীনগর, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার রেজিয়া হোটেলের সামনের অংশ, পুরাতন তথ্য অফিসের সামনের এলাকা, মল্লিকপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, উপজেলা মসজিদ মার্কেটের পাশের সড়ক ও পেছনের খালি জায়গা এবং নতুন বাসস্টেশন সংলগ্ন সড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে রয়েছে। অনেক বাসা—বাড়ির আঙিনাও পানিতে তলিয়ে গেছে।
সকাল থেকে দিনভর এসব এলাকার মানুষকে নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। স্কুল—কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সময়মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে। চাকরিজীবী ও নানা পেশার মানুষকে বাধ্য হয়ে কাদা—পানি মারিয়ে কর্মস্থলে যেতে হচ্ছে, যার ফলে দেখা দিচ্ছে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি। অন্যদিকে পানির নিচে সড়ক তলিয়ে থাকায় যানবাহন চলাচলেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে। চালকেরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছেন, এ কারণে ঘটছে ছোট—বড় দুর্ঘটনা।
.jpg)
নতুন বাসস্টেশন এলাকায় দেখা যায়, বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে হাঁটু সমান পানি জমে রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রহিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা প্রতিদিনই এই সড়ক দিয়ে চলাচল করি। একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। পানি, পিচ্ছিল কাদা আর দুর্গন্ধের মধ্যে আমাদের যাতায়াত করতে হয়। বছরের পর বছর ধরে একই অবস্থা চললেও স্থায়ী কোনো সমাধান হচ্ছে না।
ব্যবসায়ী দবির মিয়া বলেন, সকালে ব্যবসার কাজে কাজির পয়েন্ট গিয়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে অলিগলিসহ ভোজবাড়ি রেস্টুরেন্ট ও বনফুল কনফেকশনারির সামনে পানি জমে গেছে। নোংরা পানি মাড়িয়েই প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে হয়েছে। এতে আমাদের চলাচলে ভীষণ কষ্ট হয়। দ্রত এই জলাবদ্ধতা দূর করা দরকার।
ভোগান্তির এই করুণ চিত্র তুলে ধরে পৌর শহরের অনেক বাসিন্দাকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কেবল আশ্বাস নয়—খাল ও নালা দখলমুক্ত করা, নিয়মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের এই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
জলাবদ্ধতার সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী কালি কৃষ্ণ পাল বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ কামারখালসহ অন্যান্য খাল পুনরুদ্ধারের কাজ চলছে। এসব কাজ শেষ হলে সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হলে এই সমস্যা তীব্র হয়, তবে আমরা বিষয়টি আমলে নিয়ে প্রতিদিনই সরেজমিনে কাজ করছি। স্থায়ী সমাধানের জন্য কিছুটা সময়ের প্রয়োজন।
বেলা সাড়ে ১১ টায় সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল ইসলাম নুরুল পৌর প্রশাসককে সঙ্গে নিয়ে শহরের তেঘরিয়া, পিটিআই ও জামতলা এলাকা ঘুরে দেখেন। এসময় পৌরসভার ড্রেন পরিস্কার এবং বড় করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
সঙ্গে থাকা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েছ জানান, সংসদ সদস্য বলেছেন, যেহেতু শহরের একটি ড্রেন, আরেকটি ড্রেনের সঙ্গে সংযুক্ত, সেহেতু সবকয়টি সচল রাখতে হবে। একটি পরিস্কার, অন্যটি ময়লায় ভরপুর থাকলে মানুষের ভোগান্তি কমবে না। এছাড়া ড্রেন করার আগে সম্ভাবতাও যাচাই করতে হবে। এলাকার নাগরিকদেরও পরামর্শ নেবার তাগিদ দেন সংসদ সদস্য।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসিম কুমার বণিক বললেন, পৌরসভার বিগ্রেড একটি প্রকল্প আছে। বিগ্রেড প্রকল্পে সুনামগঞ্জ অন্তর্ভুক্ত। এই অর্থ ছাড় করিয়ে যে সব মহল্লায় পানি অপসারণ হচ্ছে না। সেখানে ড্রেনেজ কাম সড়ক হবে। তখন এই দুর্ভোগ থাকবে না। অন্যদিকে ড্রেনেজ পরিস্কার করণের কাজ চলমান আছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন