টাঙ্গুয়ার হাওর

ইসিএ ঘোষিত এলাকায় হাউসবোট চলাচল নিষিদ্ধ

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৩৩

নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করে জেলা প্রশাসনের জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি

সু.খবর ছবি

টাঙ্গুয়ার হাওরের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, প্রতিবেশগত ভারসাম্য ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন। হাওরের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ঊঈঅ) সীমানার অভ্যন্তরে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযান প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সাথে হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


শনিবার (১ আগস্ট) সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

 


গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’ -এর আলোকে পরিবেশ রক্ষা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ১৩ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান নির্দেশনাসমূহ- পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষিত সীমানায় সকল প্রকার হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।

 


আগামী ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ফরমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাউসবোটের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। আবেদন সংক্রান্ত বিষয়ে নেজারত ডিপুটি কালেক্টর (এনডিসি) সুনামগঞ্জ (মোবাইল ০১৭৩০-৩৩১১০৬) এর সাথে যোগাযোগ করা যাবে।

 

হাউসবোটে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক বাজানো বা পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখতে হবে। এছাড়া হাউসবোটে বাধ্যতামূলকভাবে সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন স্থাপন করতে হবে; হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না। হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং ট্যুর শুরুর আগেই তা পর্যটকদের অবহিত করতে হবে।

 

এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য জেলা/উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে। প্রতিটি ট্যুরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং হাওরের সার্বিক সুরক্ষায় এই  তদারকি জোরদার থাকবে।

 

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান বললেন, টাঙ্গুয়ার পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষায় বর্তমান জেলা প্রশাসক মহোদয়ের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই। ইসিএ এলাকায় যন্ত্র চালিত নৌযান চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে পরিবেশ প্রতিবেশের  ক্ষতিকর জলযান থাকলে, যাচাই করে চিহ্নিত করতে পরিবেশ অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। টাঙ্গুয়ার পরিবেশ প্রতিবেশ রক্ষা করতে না পারলে কিছুই থাকবে না। পর্যটকেরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

 

 

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার