গ্রামজুড়ে শোকের মাতম

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৫

জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে মইয়ার হাওরে নৌকা ডুবে নিখোঁজ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। রবিবার সকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রোয়ারকারা নামক স্থানে বাকি দুই জনের ভাসমান মরদেহ পাওয়া যায়।  তারা হলেন— জগন্নাথপুর পৌরসভার পূর্ব ভবানীপুর এলাকার মৃত জগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেব নাথ (৩৭) ও একই এলাকার মৃত. অনিল দেব নাথের ছেলে অধীর দেবনাথ (৩৫)।
সকালে উপজেলার মইয়ার হাওরের রুয়ারকারা নামক স্থান থেকে পৌরসভার ভবানীপুরের মৃত জোগিন্দ্র দেবনাথের ছেলে হেমেন্দ্র দেবনাথ (৩০) ও একই এলাকার মৃত অনিল দেবনাথের ছেলে অধির দেবনাথের (৪০) মৃত দেহ উদ্ধার করা হয়। 

 


এর আগের দিন শনিবার অধির দেবনাথের বড় ভাই অরুণ দেবনাথের (৪৫) মৃত দেহ উদ্ধার হয় এবং একই এলাকার মৃত সুবল দেবনাথের ছেলে সতীন্দ্র দেবনাথের (৬৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। 
বিষয়টি নিশ্চিত করে জগন্নাথপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহতদের পরিবারের কারো কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। 


এদিকে নৌকাডুবির ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া বিরাজ করছে। স্বজনদের কান্না যেন থামছে না। শুক্রবার রাতে পূর্ব ভবানীপুর এলাকার ৯জন নৌকাযোগে পার্শ্ববর্তী ভরাউট এলাকায় হিন্দু ধর্মীয় এক অনুষ্ঠানে যান। সেখান থেকে রাত সাড়ে ৩ টায় ফেরার পথে মইয়ার হাওরের বালুচর নামক স্থানে নৌকাটি ডুবে যায়। নৌকায় থাকা ৯ জনের মধ্যে ৫ জন সাঁতার কেটে তীর উঠলেও এ ঘটনায় ৪ জন নিখোঁজ হন। শনিবার দিনব্যাপি সুনামগঞ্জ ও সিলেট ফায়ার সার্ভিসের দুটি ডুবুরিদল যৌথভাবে নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে দুই জনের মরদেহ উদ্ধার করে।
সরজমিন পরিদর্শনকালে দেখা যায়, স্বজনহারানো পরিবারের লোকজনের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠে।

 


নিহত হেমেন্দ্র দেবনাথ এর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্ত্রী সম্পা রানী দেবনাথ চিৎকার করে কাদঁছেন। প্রতিবেশিরা তাকে সান্ত্বনা দিয়েছেন। 
সম্পা রানী জানান, আট বছর আগে পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। কাঠমিস্ত্রি কাজ করে দুই সন্তান নিয়ে স্বামী সংসার সুখ শান্তিতে চলছিল। পরিবারের একমাত্র উপার্জনকৃত ব্যক্তিকে হারিয়ে আমি দিশেহারা। তিনি হাউমাঁউ করে কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন আমি এখন অবুঝ দুই সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচমু।

 


ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ভবানীপুর গ্রামের নিশি দেবনাথ বলেন, রাত ১০টার দিকে গ্রামের পাশের মইয়ার হাওরের বালুচর এলাকায় কীর্তন শুনতে গিয়েছিলাম আমরা ৯জন। রাত ৩ থেকে সাড়ে ৩টার দিকে আমরা নৌকাযোগে বাড়ি ফিরছিলাম। বৈঠাখালী এলাকায় পৌছাঁমাত্র হঠাৎ করে নৌকায় পানি ভরে উঠল। তখন হাল্কা বাতাস ছিল। মুহুর্তের ঢেউয়ের মতো সৃষ্টি হয়ে নৌকাটি ডুবে গেল। জীবন বাঁচাতে আমরা যে যেদিকে পারি সাতাঁর কেটে তীরে উঠার চেষ্টা চালাই। ভাগ্যক্রমে আমরা ৫ জন বেঁচে গেলেও ৪ জন নিখোঁজ হন। গত দুইদিনের উদ্ধার অভিযানে তাঁদের সবার লাশ পাওয়া গেছে। 

 


জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসলাম উদ্দিন বলেন, নৌকাডুবির ঘটনায় একই গ্রামের চারজনের মর্মান্তির মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে সহায়তা করা হবে। 
এদিকে একই গ্রামের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক পোষ্টে বলেন, আমার নির্বাচনী এলাকায় নৌকাডুবির মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার