মেয়াদ শেষেও বীমার টাকা পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা

প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩০

জামালগঞ্জ উপজেলায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সু্যরেন্স কোম্পানিতে বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার এক থেকে দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও আমানতের টাকা ফেরত পাচ্ছেন না প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহক। এতে চরম ভোগান্তি ও হতাশার মধ্যে দিন কাটছে তাদের। প্রতিদিন শাখা কার্যালয়ে গিয়ে কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও মিলছে না কোনো সমাধান।

 


ভুক্তভোগীরা জানান, বীমা করলে মেয়াদ শেষে বোনাসসহ লাভজনক অর্থ ফেরতের আশ্বাসে নিম্ন আয়ের মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষ এই প্রতিষ্ঠানে বীমা করেন। কিন্তু মেয়াদ শেষ হওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও অধিকাংশ গ্রাহক তাদের প্রাপ্য অর্থ পাননি।


সরেজমিনে জামালগঞ্জ শাখা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিনই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা টাকা ফেরতের আশায় অফিসে আসছেন। কেউ অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য, আবার কেউ পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে নিজেদের সঞ্চয়ের টাকা ফেরত চাইলেও কোনো কার্যকর সাড়া পাচ্ছেন না।

 


হয়রানির শিকার গ্রাহক মুকাররম হোসেন বলেন, আমার বীমার মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন মাসে শেষ হয়েছে। প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনও একটি টাকাও পাইনি। বারবার যোগাযোগ করলেও শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ইয়াসমিন আক্তার, মেওয়া বেগম ও কল্পনা আক্তারসহ একাধিক গ্রাহকেরা জানান, মেয়াদ শেষে টাকা না পেয়ে তারা নিয়মিত অফিসে আসছেন। কিন্তু প্রতিবারই নতুন করে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে, বাস্তবে কোনো অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে না।

 


কোম্পানির স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামালগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দুই শতাধিক গ্রাহকের পলিসির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে আর্থিক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে অধিকাংশ গ্রাহকের অর্থ পরিশোধ সম্ভব হচ্ছে না। এতে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা প্রায়ই শাখা কার্যালয়ে এসে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।

 


এ বিষয়ে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সু্যরেন্স কোম্পানির জামালগঞ্জ শাখার সাংগঠনিক অফিসার (ইনচার্জ) কামরুল হাসান জিয়া বলেন, আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে কোম্পানির তহবিল সংকটে ফেলেছেন। বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর সীমিত পরিসরে কিছু গ্রাহককে টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। তবে অধিকাংশ গ্রাহককে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিন গ্রাহকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে।

 


জেলা জোনাল ইনচার্জ মেহেদি হাসান শরিফ বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত আছি। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছি। আমরা নিয়মিত হেড অফিসে অর্থ ছাড়ের জন্য তাগিদ দিচ্ছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর সাড়া পাওয়া যায় নি। শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে কোম্পানির বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর কোম্পানির বিভিন্ন সম্পদ বিক্রির জন্য সরকারের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে গ্রাহকদের পাওনা অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করছি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার