প্রকাশিত: ০২ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৭
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস বিগত আওয়ামী লীগ আমলের প্রস্তাবিত স্থান হচ্ছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জলাভূমি দেখার হাওর এলাকা। হাওর রক্ষায় স্থান পরিবর্তনে আন্দোলণ চলছে। এ অবস্থায় জেলার পাঁচ এমপি ঐক্যবদ্ধ হলে এক সপ্তাহের মধ্যে স্থান পরিবর্তন সম্ভব বলে জানিয়েছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন। তিনি বলেছেন, ‘তারা আন্দোলন করে যদি সুনামগঞ্জের ৫ এমপিকে একত্রিত করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাওরের পরিবর্তে অন্য কোনো জায়গা নির্ধারণ করতে পারে, তাহলে আমরা সেখানেই যাবো ‘
বুধবার রাতে এ প্রতিবেদককে ভিসি এসব কথা বলেন। স্থায়ী অবকাঠামো ও জনবলহীন একটি নতুন ইউনিভার্সিটির দায়িত্ব নিচ্ছেন। প্রথম চ্যালেঞ্জ কী? প্রথম পদক্ষেপ কী হবে? এ প্রশ্নের উত্তরে ‘সর্বাঙ্গে ব্যাথা, ঔষধ দিবো কোথা’ প্রবাদ বাক্যের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ‘আমি এসে এক দুইদিনে যতোটুকু খোঁজ খবর নিয়েছি তাতে বুঝতে পারছি যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্ষেত্রই চ্যালেঞ্জিং এবং উন্নতি প্রয়োজন। এতো সমস্যার মধ্যে কোন বিষয়টি নিয়ে তিনি শুরুতেই গুরুত্ব দিতে চান জানতে চাইলে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্থায়ী একটা জায়গায় ক্লাস নিয়ে ভালো শিক্ষক দিয়ে তাদের কিছু শিখিয়ে যাতে বের করতে পারি এটা হলো আমার মূল উদ্দেশ্য। পাশাপাশি সরকারি নিয়মের ভিতর দিয়ে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করার চেষ্টা অব্যাহত রাখবো।’
স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাথমিকভাবে স্থান নির্ধারণ করা হাওর এলাকায়। পরিবেশ সচেতনতায় তা ঠেকাতে আন্দোলন চলমান। আপনি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আগে বসবেন না স্থান নির্ধারণ করবেন, কোনটি আগে? এ প্রশ্নের জবাবে ভিসি বলেন, ‘একটা জায়গা অধিগ্রহণ করার জন্য যে পর্যায়ে যেতে হয়, যে ধাপগুলি পেরিয়ে একনেকে উঠবে, একনেকের পরে এটা পাস হবে। এখন এই পর্যন্ত যাওয়ার পরে যদি তোমরা এটা বলো তাহলে আরো তিন বছর লাগবে এই পর্যন্ত আনতে। এটা ৬ বছরে এই পর্যন্ত আসছে, এখন আমি ইনশাআল্লাহ ৩ বছরে এই পর্যন্ত আনতে পারবো। তাহলে লাভটা কি হলো? সামনে আগানোর পরিবর্তে আমি নিচের দিকে চলে যাবো আবার।’
হাওরের জায়গা নিয়ে আন্দোলনের ব্যাপারে বলেন, ‘সুনামগঞ্জ তো পুরোটাই হাওর। তাহলে এই আন্দোলনের অর্থ কি? হাওরে বিশ্ববিদ্যালয় চায় না মানে তারা সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় চায় না।’ এই সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি কোনো আন্দোলনকারীদের সাথে বসতে চাইনা। আমি এখানে আন্দোলন করতেও আসিনি, আন্দোলনকারীদের সাথে বসতেও আসি নি। আমি এখানে বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে আসছি। এই আন্দোলন করার উদ্দেশ্য হচ্ছে তোমরা সুনামগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয় চাও না।’
আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে সুবিপ্রবির ভিসি অধ্যাপক ড. মো. জাকির হুসাইন বলেন, ‘তারা আন্দোলন করে যদি সুনামগঞ্জের ৫ এমপিকে একত্রিত করে এক সপ্তাহের মধ্যে হাওরের পরিবর্তে অন্য কোনো জায়গা নির্ধারণ করতে পারে তাহলে আমরা সেখানেই যাবো। তাছাড়া কোনো আন্দোলনকারীদের সাথে আমি বসবোও না, আলোচনাও করব না।
প্রথম ভিসি ও অন্তবর্তী সরকারের আমলে ভিসির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠায় সিন্ডিকেট মেম্বাররাও অভিযোগ করছেন। এগুলোর ব্যাপারে আপনার করণীয় কী হবে?
তিনি বলেন, ‘আমি দায়িত্ব নিয়ে আসার পর কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আছে কি না এসব ব্যাপারে আমাকে কেউ কিছু বলে নি। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা করার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ। অতীতে কে কি করেছে সেই বিষয়ে ঘাটা আমার কাজ না। আমি এখানে কারো বিচার করতে আসি নি। আমি জজও না, ব্যারিস্টারও না। আমার কাজ হলো আমি এখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো। আমি চাই সুনামগঞ্জ ও সিলেটবাসির সহযোগিতা। যারা আমাকে সহযোগিতা করবে এই প্রতিষ্ঠান তাদের জন্য।’
এদিকে, পাঁচ এমপির ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রসঙ্গে নতুন ভিসির এমন মতামতে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) স্থায়ী ক্যাম্পাস জেলা সদরে বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব, বিএনপি নেতা মো. মুনাজ্জির হোসেন সুজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি সুনামগঞ্জের খবরকে বলেন, ‘আমরা ভিসি মহোদয়ের সাথে আনুষ্ঠানিক বসব। এর আগে শুধু এ টুকু বলব, বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে তিনি (ভিসি) যেভাবে বঞ্চিত ছিলেন, সুনামগঞ্জ জেলাবাসীও ঠিক একইভাবে বঞ্চিত হয়েছেন। আমরা সেই বঞ্চনার পুনঃস্থাপন নয়, চির—অবসান চাই। বঞ্চনাকর পরিস্থিতিতে একতরফাভাবে সুবিপ্রবির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছিল। আমরা সেই ফ্যাসিবাদী বঞ্চনার অবসান চাই।’
জেলাবাসীর দাবির প্রতি সদয় থাকার আহবান জানিয়ে মুনাজ্জির হোসেন সুজন আরও বলেন, ‘এখন নির্বাচিত সরকার আমল। এ কথা মনে রাখতে হবে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপনের মধ্য দিয়ে একটি জেলার উন্নয়নবৈষম্য ঘোচানো ও বৃহৎ একটি হাওর রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী সময়ে জেলাবাসী বঞ্চিত হয়েছেন, এমপির বিরুদ্ধে এমপি ছিলেন। বিগত সময় থেকে শিক্ষা নিতে হবে। এসব বিষয় আমরা ভিসি মহোদয়কে অবহিত করে প্রতিকার চাইব। ফ্যাসিবাদী আমলের ভিসি আর অন্তবর্তী সরকার আমলের ভিসি আমাদের হতাশ করেছেন। এখন সেই দুই আমলের ভিসির বিপরীতে এসেছেন এই ভিসি। আশাকরি তিনি আমাদের হতাশ করবেন না।’
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন