প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১১:৩০
সংগৃহীত ছবি
স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় ঘির কদর অনেক। তবে বাজারে ভেজাল ঘির প্রবণতা বাড়ায় অনেক ক্রেতাই দুশ্চিন্তায় থাকেন—কেনা ঘি আসল, নাকি নকল? বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরে বসেই কয়েকটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে ঘির বিশুদ্ধতা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া সম্ভব।
সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পাম টেস্ট। হাতের তালুতে এক চামচ ঘি নিয়ে ১০ থেকে ১৫ সেকেন্ড অপেক্ষা করুন। খাঁটি ঘি শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় দ্রুত গলে যায় এবং হাতে মসৃণ অনুভূতি দেয়। অন্যদিকে ভেজাল ঘি সহজে গলে না বা মোমের মতো অনুভূত হয়।
গরম পানির পরীক্ষাও কার্যকর। একটি গ্লাসে হালকা গরম পানি নিয়ে তাতে সামান্য ঘি দিন। খাঁটি ঘি সহজেই পানির সঙ্গে মিশে যায়। তবে ভেজাল ঘি পানির ওপর ভেসে থাকতে পারে বা পানির রঙে পরিবর্তন আনতে পারে।
গরম করার পরীক্ষায় একটি প্যানে অল্প ঘি দিন। খাঁটি ঘি দ্রুত গলে স্বচ্ছ তরলে পরিণত হয় এবং হালকা বাদামি রং ধারণ করে। ভেজাল ঘি গলতে বেশি সময় নেয়, ঘোলাটে থাকে এবং তুলনামূলক বেশি ফেনা তৈরি হতে পারে।
বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের আরেকটি উপায় হলো ফ্রিজ টেস্ট। ঘি গলিয়ে কাচের পাত্রে রেখে ফ্রিজে রাখুন। খাঁটি ঘি সাধারণত সমানভাবে জমাট বাঁধে। আর ভেজাল থাকলে আলাদা আলাদা স্তর দেখা যেতে পারে।
এ ছাড়া ঘির গন্ধ ও টেক্সচার থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। খাঁটি ঘিতে দুধের মিষ্টি ও প্রাকৃতিক সুগন্ধ থাকে এবং এর গঠন সামান্য দানাদার হয়। ভেজাল ঘিতে কৃত্রিম বা তেলতেলে গন্ধ থাকতে পারে, আবার অতিরিক্ত মসৃণও লাগতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, প্রয়োজন হলে আয়োডিন টেস্ট করেও ভেজাল শনাক্ত করা যায়। তবে এটি করার সময় সতর্ক থাকতে হবে। আয়োডিন সলিউশনের দুই ফোঁটা ঘিতে দিন। রং বদলে গেলে ভেজাল, আর রং অপরিবর্তিত থাকলে ঘি খাঁটি বলে ধরা হয়।
একই সঙ্গে শুধু একটি পরীক্ষার ওপর নির্ভর না করে একাধিক পদ্ধতি মিলিয়ে দেখাই ভালো।
তবে শতভাগ নিশ্চিত হতে হলে অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত ব্র্যান্ডের ঘি কেনা এবং পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণের সনদ যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ভেজাল পণ্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন