প্রকাশিত: ০৩ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৫
সংগৃহীত ছবি
শরীরের অতিরিক্ত চর্বিকে সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্থূলতা, হৃদ্রোগ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই শরীরের চর্বি কমানোর চেষ্টা করেন। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের চর্বি ক্ষতিকর নয়। বরং শরীরে থাকা সুস্থ ফ্যাট বা চর্বি কোষ ডায়াবেটিস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, শরীর থেকে কার্যকর ও সুস্থ ফ্যাট টিস্যু হারিয়ে গেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, শুধু অতিরিক্ত চর্বিই নয়, সুস্থ ফ্যাট কোষের ক্ষতিও বিপাকীয় সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ফ্যাট টিস্যু কেবল অতিরিক্ত ক্যালরি জমা রাখার কাজই করে না। এটি শরীরে শক্তি সঞ্চয়, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোন উৎপাদন, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। সুস্থ ফ্যাট কোষ অতিরিক্ত চর্বি নিরাপদে সংরক্ষণ করে, ফলে তা যকৃত, পেশি বা অগ্ন্যাশয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গে জমা হতে পারে না।
গবেষণায় ‘ফ্যামিলিয়াল পার্শিয়াল লিপোডিস্ট্রফি টাইপ-২ (এফপিএলডি২)’ নামে একটি বিরল বংশগত রোগ নিয়ে কাজ করা হয়। এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের শরীরের নির্দিষ্ট অংশ থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ ফ্যাট টিস্যু হারিয়ে যায়। যদিও তারা অতিরিক্ত ওজনের নন, তবুও অনেকের ডায়াবেটিস, ফ্যাটি লিভার এবং রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যায়।
গবেষকেরা দেখতে পান, ফ্যাট কোষ হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তখন কোষগুলো স্বাভাবিকভাবে চর্বি সংরক্ষণ করতে পারে না, টিস্যুতে প্রদাহ বেড়ে যায় এবং কোষের শক্তি উৎপাদনকারী অংশ ‘মাইটোকন্ড্রিয়া’ সঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে সুস্থ ফ্যাট টিস্যু সংকুচিত হয়ে হারিয়ে যায়।
এর ফলে শরীরে চর্বি ও শর্করার স্বাভাবিক বিপাক ব্যাহত হয়। চর্বি নিরাপদে সংরক্ষিত না হয়ে যকৃত ও পেশিতে জমতে শুরু করে, যা ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ফ্যাট টিস্যু থেকে উৎপন্ন গুরুত্বপূর্ণ হরমোনও কমে যায়, ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষকদের মতে, এই ফলাফল দেখায় যে ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে শুধু শরীরে কতটা চর্বি রয়েছে, তা নয়; বরং সেই চর্বি কতটা সুস্থ ও কার্যকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে গবেষণায় ওজন কমানোর বিপক্ষে কোনো বার্তা দেওয়া হয়নি। বরং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে অতিরিক্ত চর্বি কমানো এখনো ডায়াবেটিস ও হৃদ্রোগ প্রতিরোধের অন্যতম কার্যকর উপায়।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি
বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন