প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১১
জাতীয় নির্বাচনের পর এবার দেশে বইছে স্থানীয় নির্বাচনের হাওয়া। ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে নির্বাচনের দিনক্ষণ। নির্বাচনকে সামনে রখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা ভোটারদের সমর্থন পেতে শুরু করেছেন গণসংযোগ। সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলার ৮৮টি ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোটারদের কাছে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরতে সড়কের ব্যস্ততম স্থান, হাটবাজার ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টাঙানো হয়েছে ব্যানার ফেস্টুন। ঘরোয়া বা উঠোন বৈঠকে ভোটারদের মন জয় করতে দেওয়া হচ্ছে নানা প্রতিশ্রম্নতিও।
সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চায়ের দোকান, হাট—বাজার ও পাড়া—মহল্লায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও। কেউ কেউ ব্যক্তিগত অর্থ ব্যয় করে এলাকায় করছেন উন্নয়নমূলক কাজ। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ভোটারদের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। সম্ভাব্য প্রার্থীদের এমন তৎপরতায় নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। তবে প্রার্থীদের পাশাপাশি ভোটাররাও অপেক্ষায় রয়েছেন একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের। একাধিক প্রার্থীর মধ্য থেকে নিজেদের পছন্দের ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করতে চান তারা।
তাহিরপুর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস আলম এবার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি এলাকায় পোস্টার ও সাইনবোর্ড সাঁটানোর পাশাপাশি করছেন গণসংযোগ। এছাড়া বিভিন্ন সড়কের সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজেও অংশ নিচ্ছেন।
ফেরদৌস আলম বলেন, বিগত সময়ে আমার ইউনিয়নের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেছিলেন। এবার আমি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। এজন্য এলাকায় নিয়মিত গণসংযোগ করছি। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সড়ক সংস্কারের কাজ করেছি। সম্প্রতি গোলকপুর, জনতা স্কুল ও লাকমা পূর্বপাড়া সড়কের সংস্কার কাজ করেছি। এলাকার সামাজিক কাজেও জড়িত রয়েছি। এসব কার্যক্রমে মানুষের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সলুকাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমার এলাকার অনেক বারকি শ্রমিক রয়েছেন। তারা আমাকে নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহ দিচ্ছেন। পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করছেন। এলাকায় পোস্টার ও ফেস্টুন লাগিয়েছি। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডেও যুক্ত থাকার চেষ্টা করছি।
দিরাই উপজেলার তাড়ল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. নুরুল হক তালুকদার বলেন, আমি এর আগে তিনবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থাকায় এলাকার মানুষ আমাকে ভালোভাবে চেনেন ও জানেন। তাদের সুখ—দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। পারিবারিক বিভিন্ন অনুষ্ঠান, দাওয়াত ও সামাজিক সালিশে অংশ নিচ্ছি। এছাড়া এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলছি এবং তাদের মতামত ও প্রত্যাশার কথা জানার চেষ্টা করছি। মানুষের কাছ থেকে যে সাড়া ও ভালোবাসা পাচ্ছি, তাতে আমি আশাবাদী। এলাকার মানুষ আমাকে গ্রহণ করেছেন এবং তারা আমার সঙ্গে রয়েছেন। তাদের সমর্থন ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে আমি এবারও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
তাড়ল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল বাকী আজাদ বলেন, আমাদের দল থেকে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আমিসহ চারজন প্রতিযোগিতায় আছি। তবে দল শেষ পর্যন্ত যাকে মনোনয়ন দেবে, আমরা সবাই তার পক্ষেই কাজ করব। আমি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছি। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করেছি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শ্রমিক সংগঠন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার ক্যাশিয়ার রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ধনপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে চাই। সংগঠনের পক্ষ থেকে আমিই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে কাজ করছি। ধনপুর বাজার মসজিদ নির্মাণের কাজের সঙ্গেও আমি যুক্ত ছিলাম। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে এলাকার মানুষের সুখ—দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছি। আশা করি, এসব কর্মকাণ্ডে ও মানুষের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি তারা বিবেচনা করবেন। আসন্ন নির্বাচনে জনগণ আমাকে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করবেন, এটাই আমার প্রত্যাশা।
সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অ্যাড. মোহাম্মদ শামছুদ্দিন বলেন, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের প্রতিটি ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থী থাকবে। বেশিরভাগ ইউনিয়নে একক প্রার্থী রয়েছে। তবে কিছু ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থী দুজনও থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে দলীয়ভাবে যাচাই—বাছাই শেষে একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাড. আব্দুল হক বলেন, দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা অনেক আগে থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। দলীয়ভাবে প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং অতীতে আন্দোলন—সংগ্রামে তাদের ভূমিকা যাচাই—বাছাই করা হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন যোগ্য প্রার্থীকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়া হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ মিঞা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রের তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে। একটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে অন্যান্য প্রস্তুতিও পর্যায়ক্রমে নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন