পাষণ্ডরা পলাতক, ক্ষুব্ধ মানুষ

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৩

নিজের সন্তানকে বাঁচাতে অভিভাবক রক্তাক্ত হবার ঘটনায় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছিল সবচাইতে আলোচিত বিষয়। এই ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ ২৪ ঘণ্টা পরেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ ঝেড়েছেন অনেকে। আগামী রবিবার সকাল দশটায় এই ঘটনার প্রতিবাদে সচেতন সুনামগঞ্জবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন আহ্বান করা হয়েছে।

 


জেলা সিপিবি’র সাবেক সভাপতি অ্যাড এনাম আহমদ বললেন, কোন ভাবেই এই ঘটনা মেনে নেবার মত নয়। পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ আছে মানুষের মধ্যে। সন্ত্রাসীগণ কতৃর্ক আহত শিক্ষার্থী অভিভাবক শাহজাহান এক সপ্তাহ আগে পুলিশের কাছে লিখিত জানিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ কোন উদ্যোগ নেয় নি। উল্টো পুলিশকে জানানোয় শাজাহানের ছেলের উপর দ্বিতীয় দফায় হামলার ঘটনা ঠেকাতে গিয়ে তিনি নিজে রক্তাক্ত হয়েছে। এই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারে নি পুলিশ। এটি লজ্জাজনক। এই অবস্থায় শান্তিপ্রিয় শহরবাসীর ঐক্যবদ্ধ হবার বিকল্প নেই। পাড়ায় পাড়ায় সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ কমিটি করার উদ্যোগ নিতে হবে।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য অ্যাড. মল্লিক মঈন উদ্দিন সোহেল পিপি বললেন, ঘটনার নিন্দা জানাই। এভাবে মধ্য শহরে একজন অভিভাবক তাঁর সন্তানকে মাস্তানদের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।

 


সুনামগঞ্জ সদর থানার ওসি রতন সেখ বৃহস্পতিবার বিকালে বললেন, আমরা এই বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। অপরাধী কিশোর—তরুণদেরও সন্ধান পাওয়া গেছে। আশাকরছি দ্রুতই এই বিষয়ে আমাদের কার্যক্রম আপনাদের জানাতে পারবো। তিনি জানালেন, অপরাধীদের কিশোর বলার সুযোগ নেই। ওদের বয়স ২০—২১ হয়েছে। এরা প্রাপ্ত বয়স্ক।

 


প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সুনামগঞ্জ শহরের হাসননগরের প্রিয়াঙ্গণ মার্কেটের সামনে নিজের সন্তানকে উচ্ছৃঙ্খল কিছু তরুণদের হাত থেকে বাঁচাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত হন শাহজাহান। এ ঘটনায় আহতের শ্যালক জুনায়েদ আহমেদ বাদী হয়ে ৪ জনের নামোল্লেখ করে ১০—১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলো— পূর্ব সুলতানপুরের সৈয়দ আলীর ছেলে জুনাব আলী (৫৫), তার ছেলে শ্রাবণ (২১), হাছননগরের মুহিবুর রহয়াম্নের ছেলে সায়মন (২০), সদর হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারের বাসিন্দা বুরহান উদ্দিনের ছেলে হিমেল সহ অজ্ঞাত ৮—১০ জন। 

 


মামলা উল্লেখ করা হয় আহত পিতা শাহজাহানের ছেলে ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী এহসানুল হক কোচিং শেষে বাসায় ফেরার পথে অভিযুক্তরা মারপিট করে। বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর ক্ষিপ্ত হয়ে মঙ্গলবার বিকালে এহসানুল হক হাছননগর ময়নার পয়েন্টের খালার বাসা থেকে ঘটনার কিছু সময় আগে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ঘটনাস্থলে আসামাত্র আসামিরা তাকে ঘেরাও করে এবং থানাতে কেন অভিযোগ করা হয়েছে এর কৈফিয়ত চায়। এ ঘটনা প্রত্যক্ষদর্শী একজন মোবাইল ফোনে তার পিতা শাহজাহানকে জানালে মোটরসাইকেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে শাহজাহান ছেলেকে আটক করার কারণ জানতে চান। এ সময় আসামিরা রড, হেস্কো ব্লেড ইত্যাদি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে শাহজাহান মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানি হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার