প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৫
গ্যাসের দেশখ্যাত সুনামগঞ্জেও দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। এতোদিন এই সংকট পাম্পে দেখা গেলেও মঙ্গলবার কোন আগাম বার্তা ছাড়াই বন্ধ ছিল আবাসিক গ্যাস। দুপুরের আগে হঠাৎ গ্যাস চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন লাইনের গ্যাস ব্যবহারকারী শহরবাসী। অনেকে না খেয়ে দুপুর কাটিয়েছেন। কেউ কেউ কাগজ জ্বালিয়ে রান্না করেছেন দুপুরের খাবার। অনেকে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়ে সিলিন্ডার গ্যাসে রান্না করে খাবার খেয়েছেন। এই সংকট কবে শেষ হবে নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কতৃর্পক্ষ। তবে ভবিষ্যতে আরও সংকট দেখা দিতে পারে তাই আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার দুপুর ১ টার দিকে হঠাৎ গ্যাসের চাপ কমে যায়। মোমবাতির মতো আগুন জ্বলেছে চুলায়। বিকেল ৩ টার দিকে কিছুটা উন্নতি হয়। অন্যদিকে পাম্পগুলোতে একেবারেই বন্ধ ছিল গ্যাস বিতরণ। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দীর্ঘক্ষণ সড়ক অবরোধ করে রাখেন চালকরা। দেখা দেয় দীর্ঘ যানজট।
সিনথিয়া গ্যাস পাম্পে সিএনজি চালক হামিম মিয়া বলেন, প্রত্যেকদিন পাম্পে গ্যাস থাকে না। অল্প গ্যাস দেয় আমাদের। এতে কিছু সময় গাড়ি চালাতে পারলেও আজকে একেবারেই বন্ধ। কেউ সামান্য গ্যাসও পাচ্ছে না। এমন হলে আমরা জীবিকা চালাব কি করে।
বড়পাড়ার গৃহিণী সুমি বেগম বলেন, আগে থেকে গ্যাস থাকবেনা জানা ছিলো না। এমন কোন সংবাদও শুনিনি। হঠাৎ গ্যাস চলে যাওয়ায় বিপাকে পড়ি। ননদ জানতে পেরে সবাইকে এসে তার বাড়ি নিয়ে যায়। পরে ৮ সসদ্যের পুরো পরিবার ননদের বাসায় গিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছি।
শেফালী বেগম বলেন, ভাত রান্নার মাঝখানে গ্যাস চলে যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও যখন গ্যাস আসেনি তখন গ্যাসের চুলায় কাগজ জ্বালিয়ে ভাত রান্না করেছি। আর পুরনো তরকারি দিয়ে দুপুরের খাবার খেয়েছি।
জালালাবাদ গ্যাস টি এ্যান্ড ডি সিস্টেম লিমিটেড, আঞ্চলিক বিতরণ কার্যালয় সুনামগঞ্জের আবিকা প্রধান মো মেহেদী হাসান বলেন, জাতীয় গ্রীড থেকে হঠাৎ গ্যাসের প্রেসার কমে গেছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। জাতীয়ভাবে ঢাকা চট্টগ্রামে এমন সমস্যা আরও আগে থেকেই। এই সংকট কখন শেষ হবে আমাদের কাছে কোন তথ্য নেই। আবাসিক যারা আছেন তারা রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভালো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন