প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩২
শান্তিগঞ্জ উপজেলার বেশিরভাগ ইউনিয়নেই মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে মাদকবিরোধী তরুণরা মাদক কারবারি ও মাদকসেবীদের আটক করে বিভিন্নভাবে শাস্তি দিয়ে অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করছেন অথবা পুলিশের কাছে সোপর্দ করছেন। বিশেষ করে পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নে এ ধরনের কার্যক্রম বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পাথারিয়া ও দরগাপাশা ইউনিয়নেও এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে সামাজিক আন্দোলনের চাপে মাদক কারবারিরা তাদের ব্যবসার ধরন পাল্টে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মরণনেশার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। বলতে গেলে, মাদকবিরোধী তরুণদের সঙ্গে যেন লুকোচুরি খেলায় নেমেছে তারা। উপজেলার মাদকবিরোধী তরুণদের অভিযোগ, অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায় সম্প্রতি মদ, ইয়াবা ও গাঁজার বিস্তার বিভিন্ন ইউনিয়নে মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও পুলিশ এ দাবির সাথে একমত নয়। তবে তাদের দাবি, মাদক কারবারিদের ধরতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিভিন্ন ইউনিয়নের মাদকবিরোধী একাধিক তরুণের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মানুষের বেশ ধরে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে, মোটরসাইকেল চালক সেজে কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলাচলের সময় মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে একটি চক্র। তরুণদের নজরদারির আভাস পেলেই তারা কৌশল বদলে ফেলে। কখনো নৌকায় ভাসমান অবস্থায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করেও মাদক লেনদেন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, মাদক কারবারিরা ছদ্মবেশে সমাজে চলাফেরা করছে। কেউ কেউ নিয়মিত নামাজ আদায় করেও গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কাউকে দেখে মনে হবে তিনি সম্প্রতি ইউরোপ বা দুবাই থেকে ফিরেছেন। এমন বাহ্যিক পরিচয়ের আড়ালেই চলছে তাদের অবৈধ ব্যবসা।
সম্প্রতি মাদকবিরোধী অভিযানে উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের তরুণরা হাতকাটা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে একটি বিদেশি মদের বোতল, প্রায় ২০০ গ্রাম গাঁজা ও কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেটসহ হাতেনাতে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। একইভাবে ইউনিয়নের নবীনগর এলাকায় ইয়াবাসহ একজনকে আটক করে পুলিশে দেয় সামাজিক সংগঠন এফডিআরের সদস্যরা। এছাড়া পাথারিয়া ইউনিয়নের মুরাদপুর এলাকায় এক পথচারীর কাছ থেকে প্রায় এক কেজি গাঁজা উদ্ধার করে তরুণরা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
পশ্চিম পাগলাসহ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের যেসব মাদক কারবারি ব্যবসা করছেন, তাদের বেশিরভাগই পার্শ্ববর্তী ছাতক উপজেলার বড়কাপন এলাকা থেকে মাদক সংগ্রহ করেন বলে দাবি করেছেন মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত একাধিক ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা জানান, পাগলাসহ আশপাশের এলাকায় এখন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হয়েছে। তাই কারবারিরা কৌশল বদলে গাড়ি ও নৌপথ ব্যবহার করে গোপনে মাদক পরিবহন করছেন। তাদের মতে, মাদকের চালান মূলত বড়কাপন এলাকা থেকেই আসে। যারা স্থানীয়ভাবে মাদক সংগ্রহ করতে পারেন না, তারাও বড়কাপন থেকে নিয়ে আসেন। সাম্প্রতিক সময়ে জনতার হাতে ধরা পড়া অনেকেই জিজ্ঞাসাবাদে বড়কাপন এলাকার নাম উল্লেখ করেছেন। ফলে মাদকের প্রসঙ্গ উঠলেই আলোচনায় চলে আসে বড়কাপনের নাম।
মাদকবিরোধী আন্দোলনে পাথারিয়া ইউনিয়নের এইচ এম নাছির আহমদ, পশ্চিম পাগলায় কামাল হোসেন, শাহীন রহমান, নাঈম আহমদ, মেহেদী হাসান এবং দরগাপাশা ইউনিয়নে শ্যামল চৌধুরী। তারা বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা এখন অনেক বেশি কৌশলী। পরিচিতজনদের কাছে তারা দাবি করে, তারা আর মাদক বিক্রি করেন না। কিন্তু গোপন তথ্য বলছে, তারা শুধু পদ্ধতি বদলে একই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে উপজেলায় মাদকের এমন বিস্তার কিংবা মাদক কারবারিদের সঙ্গে তরুণদের ‘লুকোচুরি’ খেলার অভিযোগ মানতে নারাজ পুলিশ।
শান্তিগঞ্জ থানার ওসি অলী উল্লাহ বলেন, তরুণদের সঙ্গে মাদক কারবারিদের লুকোচুরির বিষয়টি আমার জানা নেই। কেউ আমাকে এ বিষয়ে অভিযোগও করেননি। আর উপজেলায় মাদকের ভয়াবহ বিস্তার ঘটেছে—এমনটাও নয়। তবে যেসব মাদক কারবারি রয়েছে, তাদের ধরতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। এ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজসহ সবার সহযোগিতা কামনা করছি।
বড়কাপন এলাকা থেকে মাদক আসার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি অন্য থানার অধিক্ষেত্রের বিষয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ছাতক থানার সাথে কথা বলবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন