রায় কার্যকর করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করুন

প্রকাশিত: ০৪ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৮

জুলাই গণ—অভ্যুত্থানে গুলিতে নিহত সুনামগঞ্জের তিন তরুণের আত্মত্যাগের দুই বছর পূর্ণ হলেও তাঁদের পরিবারের বেদনা এতটুকুও কমেনি। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ সন্তান আবার কেউ স্বামী। বিচার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও শহীদ পরিবারের একটাই প্রত্যাশা দ্রুত রায় কার্যকর করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করা।

 


জানা যায়, জুলাই গণ—অভ্যুত্থানে সুনামগঞ্জের প্রথম শহীদ হন জেলার ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের মোহাম্মদ হৃদয় মিয়া (২৭)। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত হন তিনি। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জেই দাফন করা হয়। পরিবারের অন্যতম ভরসা হৃদয়ের মৃত্যুর পর স্ত্রী ও দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে তার পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে।

 


এরপর ৫ আগস্ট রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে নিহত হন জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের গোলামীপুর গ্রামের সোহাগ মিয়া (২৩)। ছয় ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় সোহাগ একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে পুরো পরিবার চালাতেন। তাঁর উপার্জনের টাকায় চলত সংসারের খরচ, ঋণের কিস্তি ও অসুস্থ বাবার চিকিৎসা। একই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই শুভ মিয়াও গুলিবিদ্ধ হন। অর্থাভাবে এখনও তাঁর পা থেকে ছররা গুলি অপসারণ করা সম্ভব হয় নি। ঘটনার পরদিন ৬ আগস্ট তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে এনে দাফন করা হয়। সোহাগ হত্যার ঘটনায় রাজধানীর বাড্ডা থানায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৯৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে দাফনের প্রায় ১৫ মাস পর সোহাগের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়। একই দিনে (৫ আগস্ট) গাজীপুরের শফিপুরে আনসার—ভিডিপি একাডেমির সামনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন মধ্যনগর উপজেলার জলুষা গ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আয়াতুল্লাহ। তাঁর মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।


শহীদের পরিবারের সদস্যরা জানান, রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও আর্থিক সহায়তা পেলেও প্রিয়জন হারানোর শূন্যতা কখনও পূরণ হওয়ার নয়। তাঁদের দাবি, বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে রায় কার্যকর করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবারকে এমন বেদনা বহন করতে না হয়।

 


শহীদ সোহাগের বড় ভাই বিল্লাল হোসেন বলেন, বিজয় মিছিলে পুলিশের গুলিতে আমার ভাই মারা যায়। আরেক ভাই শুভর পায়ে এখনও গুলি রয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে সোহাগের কবর পাকা করে নামফলক স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয় নি। পরে এলাকাবাসী ও নিজেদের অর্থায়নে আমরা কবরটি পাকা করেছি। জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে ৩০ লাখ টাকা সহায়তা পেয়েছি। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চেয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা করেছি। আমি সেই বিচারের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
শহীদ হৃদয়ের স্ত্রী শিরিনা আক্তার বলেন, আমার দুই শিশু সন্তান এখনও তাদের বাবার জন্য অপেক্ষা করে। তাদের নিয়ে অনেক কষ্টে দিন পার করছি। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় আমার স্বামীকে ধর্মপাশা না নিয়ে তড়িঘড়ি করে নারায়ণগঞ্জেই দাফন করি। তিনি বলেন, আমি সরকারের সহযোগিতা বা অনুদান বলতে কিছুই পাইনি।

 


সিলেট বিভাগীয় ‘জুলাই—২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি’র সভাপতি এবং শহীদ আয়াতুল্লাহর বড় ভাই সোহাগ বলেন, আমার সামনেই আমার ছোট ভাইকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর মরদেহ গুম করা হয়। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার ১১ দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে রাত ১১টার দিকে মধ্যনগর নতুন সেতুর ওপর জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করি। এরপর ছাত্র—জনতা মিলে সেতুটির নাম ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু’ রাখে। ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সরকারি গেজেটে নামকরণের জন্য আবেদন করা হলেও এখনও সেটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েও কোনো সুফল পাইনি। 

 


এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল—মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার