প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:০৫
সিলেটে শিশু ফাহিমা হত্যা
সিলেটের আলোচিত চার বছরের শিশু ফাহিমা আক্তার ধর্ষণ চেষ্টা ও হত্যা মামলার বিচার কার্য মাত্র ৯০ দিনে সম্পন্ন হয়েছে। এই মামলা প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এই মামলার বাকি দুই আসামি জাকিরের ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে খালাস প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু ওবাইদা এ রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) বদরুল ইসলাম চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
শিশু ফাহিমা ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার ঘটনার মাত্র তিন মাসের মাথায় এ রায় প্রদান করা হলো। এর আগেএ মামলায় এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি জাকির হোসেন ও তার দুই সহোদর জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযোগপত্রে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার দায়ে জাকির হোসেনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। আর লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে আসামী করা হয়েছে তার দুই ভাই জয়নাল ও কালামকে।
নিহত ফাহিমা আক্তার (৪) সিলেট সদর উপজেলার কান্দির গাঁও ইউনিয়নের সোনাতলা গ্রামের দিনমজুর রাইসুল হকের মেয়ে। আর মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মো. জাকির হোসেন (৩০) একই গ্রামের পশ্চিম পাড়া ধন রায়ের চক এলাকার বাসিন্দা মৃত তোতা মিয়ার ছেলে। আলোচিত এ হত্যাকাণ্ডে সিলেটজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ফাহিমার হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং ডা. শফিকুর রহমান ফাহিমার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ৬ মে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শিশু ফাহিমা। দুই দিন পর ৮ মে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ১১ মে রাতে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের কাছে এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে ঘটনার বর্ণনা দেন।
১২ মে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ—কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন সকালে ফাহিমাকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়। সিগারেট নিয়ে ফেরার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে জাকির। তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ একটি ব্রিফকেসে ভরে ঘরের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু হলে সেটি বাড়ির নিচে সরিয়ে রাখা হয়। সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে গভীর রাতে মরদেহটি পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মরদেহ পানিতে ডুবে না যাওয়ায় সেটি ডোবার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় জাকির। অভিযুক্তের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাদর ও ব্রিফকেস উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তের অংশ হিসেবে এসব আলামত পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে।
ফাহিমাকে ধর্ষণ ও হত্যার ১ মাস পর গত ১১ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। চার্জশিটে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামকে অভিযুক্ত করা হয়। এরপর বিভিন্ন বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আলোচিত এই মামলার রায় প্রদান করা হয়।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন