প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৩
মধ্যনগরে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারির বিরুদ্ধে অভিযোগ
মধ্যনগর উপজেলার লায়েছ ভূঁইয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সহকারী শিক্ষক ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. আলী হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি মাসের অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় একসঙ্গে পুরো মাসের উপস্থিতির স্বাক্ষর করেন। এমনকি বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিনেও তাঁর নামে কোনো শ্রেণি বরাদ্দ নেই।
প্রতিবেদকের হাতে আসা হাজিরা খাতার কয়েকটি ছবি পর্যালোচনায় দেখা যায়, কোনো কোনো মাসের প্রায় ২৫ তারিখ পর্যন্ত আলী হোসেনের কোনো স্বাক্ষর নেই। তবে মাস শেষে তিনি পুরো মাসের হাজিরায় স্বাক্ষর করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিন পর্যালোচনা করেও তাঁর নামে কোনো ক্লাস বরাদ্দ পাওয়া যায় নি।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে মধ্যনগর উপজেলার দাতিয়াপাড়া গ্রামে সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন তাঁর বাবা লায়েছ ভূঁইয়ার নামে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। শুরুতে লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত বিদ্যালয়টি ২০২২ সালের জুলাই মাসে এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্ত হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানের সামনে বসা গরুর হাটের আয় থেকে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হতো। বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক দাবি করেন, সে সময় গরুর হাটের আয়ের একটি অংশ ডিআইজির ভাগ্নে আলী হোসেনও গ্রহণ করতেন।
বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রায় ৬৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এদের অধিকাংশই সরকারি উপবৃত্তিপ্রাপ্ত। নিয়মানুযায়ী উপবৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ প্রাপ্ত অর্থ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাওয়ার কথা থাকলেও অভিযোগ রয়েছে, ওই অর্থ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে দুই দফায় আদায় করা ১৫০ টাকা করে ফি চুক্তিভিত্তিক শিক্ষকদের বেতন পরিশোধে ব্যয় করা হচ্ছে। অভিযোগ, সেই অর্থ থেকেই বেতন নিচ্ছেন আলী হোসেন, যদিও তিনি নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেন না।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আলী হোসেন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পরে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগের সময় বেশ কয়েকজন চুক্তিভিত্তিক শিক্ষক বাদ পড়লেও তিনি বহাল থাকেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকায় আলী হোসেনকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তিনি নিয়মিত পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, তিনি মামার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন। প্রায়ই শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন। অনেক সময় সহকর্মীদের কাছে টাকা ধার চান। কেউ দিতে না চাইলে বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়। তাঁর আচরণে বিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক অতিষ্ঠ।তার ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মো. আলী হোসেন বলেন, আমি স্কুল থেকে কোনো বেতন নেই না। আমাকে বেতন দেয় কল্যাণ ট্রাস্ট। হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, স্কুল এমপিও হওয়ার আগে আমি ক্লাস নিয়েছি। আর অন্যান্য শিক্ষকরাও প্রধান শিক্ষকের কাছ থেকেই বেতন নেন।
বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শাহীন উদ্দিন বলেন, আলী হোসেন ক্লাস নিতে আগ্রহী নন। তাই ক্লাস রুটিনে তাঁর নাম রাখা হয়নি। তিনি প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত বেতন নিলেও নিজের ইচ্ছামতো চলাফেরা করেন।
২০২২ সালে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হলেও এখনো লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টের নিয়মেই পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়। শুরুতে ট্রাস্টের সভাপতি’র দায়িত্বে ছিলেন সাবেক ডিআইজি আব্দুল বাতেন। জুলাই আন্দোলনের পরবর্তী সময়ে থেকে তাঁর ভাই আব্দুর রাজ্জাক সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আলী হোসেন শুধু বিদ্যালয়ের শিক্ষক নন, তিনি লায়েছ ভূঁইয়া কল্যাণ ট্রাস্টেরও সেক্রেটারি। ট্রাস্টের বিভিন্ন কাজে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হয়। ট্রাস্টের কাজে বাইরে যেতে হলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি প্রয়োজন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই অনুমতি লাগবে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জনি রায় বলেন, বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। এ বিষয়ে নীতিমালা অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন