প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৪
দেড় মাস বন্ধ থাকার পর সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদর অংশের প্রায় দুই কিলোমিটার চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ ফের পুরোদমে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণকাজ পুনরায় আরম্ভ করে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় সড়কে জমা মাটি ও বালু থেকে তীব্র ধুলাবালির সৃষ্টি হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। কাজ শুরু হওয়ায় এবং নিয়মিত পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করা হলে এই জনদুর্ভোগ লাগব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করতে এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০২৪—২৫ অর্থবছরে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। চুক্তির মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে।
.jpg)
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট তথ্যমতে, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজের শুরুতে মাটি ভরাট ও ঢালাই দ্রুত গতিতে এগোলেও সম্প্রতি ভিটি বালু সংকটসহ নানা কারণে কাজের গতি থমকে যায়। এতে নির্মাণাধীন সড়কের বালু ও মাটি থেকে ধুলা উড়ে ভোগান্তি বাড়ে। চলতি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্নের দাবি করে। তবে কাজের প্রকৃত অগ্রগতি নিয়ে সওজ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যে কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়েছে। অবশেষে দেড় মাস কাজ বন্ধ থাকার পর ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় দ্রুত গতিতে কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জানান, টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ফায়ার সার্ভিস ও বিটাকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে এই চার লেন সড়কটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের যোগাযোগব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং যান চলাচল অনেক স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। তবে নির্মাণকাজ চলাকালে শান্তিগঞ্জ বাজারসহ আশপাশের এলাকায় ধুলাবালির কারণে ব্যবসায়ী ও পথচারীদের দৈনন্দিন সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় চলাচলকারী যানবাহনের বাতাসে মাটি—বালু উড়ে দোকানপাট ও বসতবাড়িতে গিয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালামাল নষ্ট হচ্ছে ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। তাই দ্রুত কাজ শেষ করার পাশাপাশি প্রতিদিন নিয়ম করে সড়কে পানি ছিটানোর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলী সাকিব আল হাসান জানান, প্রয়োজনীয় মালামাল সরবরাহে বিলম্বসহ কিছু সমস্যার কারণে প্রায় দেড় মাস কাজ বন্ধ ছিল। এখন পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। নির্মাণসামগ্রী ও মালামালের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের আগেই কাজ সম্পন্ন করতে আমরা প্রতিশ্রম্নতিবদ্ধ।
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ও মালামাল সরবরাহজনিত সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ ছিল। মঙ্গলবার থেকে পুনরায় কাজ শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে কাজটি শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুততম সময়ে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন