প্রকাশিত: ০৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩১
শহরের ব্যস্ততা আর কোলাহল পেরিয়ে একটু স্বস্তি ও নির্মল পরিবেশে সময় কাটাতে সুনামগঞ্জবাসীর কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে নতুন বিনোদনকেন্দ্র ‘হেপিল্যান্ড পার্ক’। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শিশুদের খেলাধুলার আধুনিক ব্যবস্থা ও বৈচিত্র্যময় আয়োজনের কারণে পার্কটিতে প্রতিনিয়ত পরিবার—পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে ভিড় করছেন বিনোদনপ্রেমীরা।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় চার—পাঁচ কিলোমিটার দূরে আব্দুজ জহুর সেতু পেরিয়ে বিশ্বম্ভরপুর—তাহিরপুর সড়ক ঘেঁষে লালপুর এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে পার্কটি। শহরের কাছে হলেও তুলনামূলক নিরিবিলি ও সবুজ প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠায় এটি দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ কাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মাঝে শিশুদের উচ্ছ্বাস সবচেয়ে বেশি। কেউ ব্যস্ত দোলনায়, কেউ খেলনার সঙ্গে, আবার কেউবা মগ্ন ছোট ট্রেনে চড়তে। অন্যদিকে বয়স্করা মেতেছেন প্রকৃতির রূপ উপভোগ ও পরিবার—পরিজনের সঙ্গে ছবি তুলে স্মৃতি ধরে রাখার কাজে।
পার্কে ঘুরতে আসা সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফারিহা সুলতানা শিউলী বলেন, পূর্ব পাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও শিশুদের খেলাধুলার চমৎকার ব্যবস্থা দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা বেশ আনন্দ করেছি।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মাসুদ রানা অনুভূতি প্রকাশ করে বলে, ফুল, খেলনা, ট্রেন আর কিন ব্রিজের প্রতিকৃতি—সব মিলিয়ে জায়গাটি অসাধারণ।
শহর থেকে পরিবার নিয়ে আসা পাপ্পু দে এবং ভাতেরটেক থেকে আসা মামুন আহমেদ জানান, জেলা শহরের এত কাছাকাছি সুন্দর ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশ সত্যিই বিরল। চারপাশের গাছপালা, ফুল ও শিশুদের খেলনার বন্দোবস্ত ভালো লাগায় বারবার ছুটে আসছেন তারা।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, ছোট—বড় সব বয়সী মানুষের চাহিদার কথা মাথায় রেখেই পার্কটি সাজানো হয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে হানি সুইং, মিনি ইনডোর গেমস, ট্রাম্পলিন ও ট্রেনসহ বেশ কিছু রাইড। বড়দের জন্য রাখা হয়েছে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও দোলনা।
বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বর্ষাকালে হাওরের সৌন্দর্য উপভোগের জন্য তৈরি করা হয়েছে ‘হাওর বিলাস’ আদলের একটি বিশেষ স্থাপনা। বর্ষায় চারপাশের জলরাশির সঙ্গে এই স্থাপনাটি দর্শনার্থীদের ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেবে। এছাড়া পার্কে আগতদের রিফ্রেশমেন্টের জন্য রয়েছে একটি ক্যাফে, যেখানে চটপটি ও ঠান্ডা পানীয়সহ বিভিন্ন হাল্কা খাবার পাওয়া যায়।
পার্কের পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম জয় বলেন, সব বয়সী মানুষের বিনোদনের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা পার্কটি তৈরি করেছি। শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইডের পাশাপাশি বড়দের বসা ও সময় কাটানোর সুন্দর পরিবেশ রাখা হয়েছে। বর্ষাকালে হাওর বিলাসের পরিবেশটা আরও উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
পার্কে প্রবেশের মূল টিকিট জনপ্রতি ২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভেতরের বিভিন্ন রাইডের জন্য রয়েছে আলাদা টিকিটের ব্যবস্থা—এর মধ্যে ট্রেনের টিকিট ৫০ টাকা, হানি সুইং ৪০ টাকা, ট্রাম্পলিন ২০ টাকা এবং ইনডোর গেমসের টিকিট ৫০ টাকা।
প্রাকৃতিক রূপ আর আধুনিক বিনোদনের সমন্বয়ে গঠিত ‘হেপিল্যান্ড পার্ক’ এখন সুনামগঞ্জের বিনোদনপ্রেমীদের জন্য এক নতুন ও জনপ্রিয় গন্তব্য।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন