ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৫২

শাল্লা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা না দিয়েই চূড়ান্ত তালিকায় নাম আসা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় বঞ্চিত প্রার্থীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলায় ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় এবং বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিরোধিতায় মাঠে থাকা আটগাঁও ইউনিয়নের বাজারকান্দি গ্রামের সৌরভ সমাজপতিকে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তথ্য সংগ্রহকারী পদে নিয়োগ পাওয়া উজ্জ্বল চৌধুরী, জুয়েল দাশ, তুহিন মিয়া ও মাসুকুল ইসলামের সরাসরি ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বঞ্চিত প্রার্থীদের দাবি, মাসুকুল ইসলাম নামের এক কর্মী ভাইভা পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম এসেছে। পরীক্ষার্থী সুবেল আহমেদ শুভ বলেন, আমরা যখন ভাইবা পরীক্ষা দিই, তখন মাসুকুল উপস্থিত ছিলেন না। ভাইবা বোর্ডের সদস্যরা তাকে ডেকেও পাননি। অথচ চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম এসেছে। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়দের এভাবে নিয়োগ দেওয়া দুঃখজনক। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পুনরায় যাচাই—বাছাইয়ের দাবি জানাচ্ছি।

 


অন্য এক পরীক্ষার্থী হাজিরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয়দের নিয়োগ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও শর্তভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে। বঞ্চিতদের অভিযোগ, উপজেলা বিএনপির এক শীর্ষ নেতার স্বজনের প্রভাবে তথ্য সংগ্রহকারী পদে অনিয়ম করে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দা হওয়ার বাধ্যতামূলক শর্ত থাকলেও তা ভেঙে সুপারভাইজার পদে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে দুই বছর আগে দিরাই উপজেলায় বিয়ে হওয়া পাম্পি রানী দাসকে। এছাড়া অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা রাসেল রাহাতের বিরুদ্ধেও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

 


এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রোমান আহমেদ বলেন, সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড প্রদান কার্যক্রমকে সুপরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করতেই এমন অনিয়ম করা হচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

 


উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। তবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। সেখানে স্বচ্ছতা থাকা জরুরি। কোনো অনিয়ম ঘটে থাকলে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।

 


অভিযোগের বিষয়ে জানতে ফ্যামিলি কার্ড স্বেচ্ছাসেবী তথ্য সংগ্রহ কমিটির সদস্য সচিব ও সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে কমিটির সভাপতি ও শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সবার রাজনৈতিক প্রোফাইল যাচাই করে নিয়োগ দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কেউ নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় আমাদের নজরে আসেনি। তবে কারো বিরুদ্ধে দেশবিরোধী বা কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার