প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৩
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় এবার উঠে এসেছে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) অস্থায়ী ক্যাম্পাসের সংকট, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি এবং শহরের কাছে একটি সমন্বিত অস্থায়ী ও স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবি। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম ভাড়া করা ও বিচ্ছিন্ন স্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় আবাসন, যাতায়াত ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে নানা ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আকবর আলী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার জাকারিয়া আহমদ। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে ধরা হলো—
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস কবে হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে শহরের মধ্যে একটি সমন্বিত অস্থায়ী ক্যাম্পাস করার দাবিকে আপনি কতটা যৌক্তিক মনে করেন?
আকবর আলী: এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। অস্থায়ী ক্যাম্পাসগুলো সুনামগঞ্জের আশপাশে হওয়া উচিত, যাতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও স্বাভাবিক পরিবেশে যাতায়াত ও পড়ালেখা করতে পারে। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের পাশে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি নতুন, পরিষ্কার ভবন রয়েছে, যেখানে এখনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করা গেলে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত উপকৃত হবে। পাশে সরকারি কলেজের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী থাকায় এলাকাটি একটি চমৎকার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সরকারি কলেজ সংলগ্ন ভবনে অস্থায়ী ক্যাম্পাস স্থানান্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিকভাবে কী ধরনের উদ্যোগ নেওয়া দরকার?
আকবর আলী: এখানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জেলা প্রশাসন সুধীজন, শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা ডেকে এই স্থানান্তরের বিষয়টি আলোচনা করতে পারে। প্রশাসন যদি রাজনৈতিক সহযোগিতা চায়, তবে আমরা অবশ্যই তা করব। সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ এই উদ্যোগে পাশে থাকবে।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বর্তমান শান্তিগঞ্জের অস্থায়ী ক্যাম্পাস এবং শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি নিয়ে আপনার পর্যবেক্ষণ কী?
আকবর আলী: অনেক শিক্ষার্থী সুনামগঞ্জ শহরেই বসবাস করে এবং প্রতিদিন সেখান থেকে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় নষ্ট হওয়া সহ পড়ালেখায় নানা ভোগান্তি পোহায়। শহরে থাকলে শিক্ষার্থীরা টিউশনি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়ে নিজেদের মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারে, যা শান্তিগঞ্জের বর্তমান অস্থায়ী ক্যাম্পাসে সম্ভব হচ্ছে না। তাই বাস্তব সুবিধা বিবেচনা করে অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা দরকার।
দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের প্রস্তাবিত স্থান ও সরকারের ব্যয় সাশ্রয়ের বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?
আকবর আলী: শান্তিগঞ্জের প্রস্তাবিত জায়গাটি নিচু, ধানচাষের জমি এবং ফিশারি সংলগ্ন। সেখানে ক্যাম্পাস করলে কৃষিজমি নষ্ট, ফিশারি ও পরিবেশের ক্ষতি এবং বড় ধরনের জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে; পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটে সরকারের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হবে। এর বিপরীতে আমাদের প্রস্তাবিত জায়গাটি সরকারি খাসজমি, যা সুনামগঞ্জ শহর ও শান্তিগঞ্জ—উভয় স্থান থেকেই সমদূরত্বে অবস্থিত। খাসজমি হওয়ায় সরকারের জমি অধিগ্রহণের কোনো বাড়তি খরচ লাগবে না। এছাড়া জমিটি তুলনামূলক উঁচু হওয়ায় মাটি ভরাটের খরচও অনেক কম হবে। তাই সরকারের অর্থ সাশ্রয় ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে খাসজমিতেই ক্যাম্পাস নির্মাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন