প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৪
‘আজকে আমি টাকা পাই আর না পাই, অন্যরা পাইছে। তালিকাত আমার নামও আছে। আজকে না পাইলেও দুই দিন পরে পাইমু। এই কামই তো কোন সরকার করছেনা। ৩—৪ বছর খত দিয়াও কিচ্ছু করা গেলোনানে আগের সময় থাকলে।’
দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষক—কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে বের হয়ে আনন্দের সাথে কথাগুলো বলে বলে যাচ্ছিলেন জেলার এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সুনামগঞ্জের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা শিক্ষা অফসার সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। সরাসরি যুক্ত থাকলেও সময় স্বল্পতার কারণে কেউ প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হতে পারেননি। তবে অন্যান্য কয়েকটি জেলার শিক্ষলদের সাথে সরাসরি কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা রঙ্গারচর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল গফুর বলেন, বেসরকারি শিক্ষকরা সব সময় অবমূল্যায়িত ছিলেন। অবসরের যাওয়ার পর টাকা পাওয়া নিয়ে থাকতো অনিশ্চয়তা। অনেক শিক্ষক আছেন যাদের ঘরে উপার্জনক্ষম মানুষ নেই। শিক্ষকের অবসরের টাকাই জীবনের শেষ ভরসা। আজকে প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের সাথে সাথেই অনেকের মোবাইলে টাকা পাওয়ার মেসেজ আসে। তবেকেউ দুটি মেসেজ, কেউ একটি মেসেজে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। কেউ আবার একটিও মেসেজ পাননি কিন্তু তালিকায় আছেন। হয়তো তাড়াহুড়োর কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে।
মিতালি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক চিত্তরঞ্জন দাস বলেন, আমার নাম আছে তালিকায় কিন্তু পাইনি। তবে আশা জেগেছে যে পাবো। সরকারের এমন উদ্যোগে আমরা খুশী আছি।
জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো জুলফিকার হোসেন বলেন, সুনামগঞ্জে আনুমানিক ৬০০ শিক্ষক অবসর ভাতার তালিকায় আছেন। সবাই টাকা পাবেন। সবকিছু হয়েছে মন্ত্রণালয় থেকে, টাকাও আসবে শিক্ষকদের নিজ নিজ মোবাইলে। কত টাকা কতজন পাবেন এই তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে আসলে বলতে পারবো।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন