প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৬
ঘন ঘন লোডশেডিং
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ঘন ঘন লোডশেডিং ও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা—বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, অনলাইন কার্যক্রম, বাসাবাড়ির পানি সরবরাহ ও চিকিৎসাসেবাসহ দৈনন্দিন স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
শনিবার সরেজমিনে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাজার, আলফাত স্কয়ার, ষোলঘর, হাছননগর, স্টেশন রোড ও সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাভাবিক কাজ। ওয়ার্কশপ, কম্পিউটার ও ফটোকপির দোকান, মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টার, সেলুন এবং জুস ও ঠান্ডা খাবারের দোকানের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় সময়মতো কাজ শেষ করতে পারছেন না তারা, অথচ গুনতে হচ্ছে কর্মচারীদের বেতনসহ অন্যান্য পরিচালন ব্যয়।
পুরাতন বাজারের জুস বিক্রেতা সুমন জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বরফ গলে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়েছেন তিনি।
ফটোকপি ব্যবসায়ী রাহি ও আতিক বলেন, বিদ্যুৎ না থাকলে দোকান পুরোপুরি অচল হয়ে যায়। বিশেষ করে পরীক্ষার মৌসুমে শিক্ষার্থীদের নোট, সাজেশন ও প্রশ্নপত্র ফটোকপির চাহিদা থাকলেও তা সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারি কলেজের পাশের ‘মা কম্পিউটার’—এর মালিক জিসান জানান, টাইপিং, অনলাইন আবেদন ও প্রিন্টিংয়ের জরুরি কাজ নিয়ে আসা গ্রাহকদের সেবা না দিয়েই ফিরিয়ে দিতে হচ্ছে। একই ধরনের দুর্ভোগের কথা জানান মোবাইল সার্ভিসিং ব্যবসায়ী সুজিত দাস ও সেলুন কর্মী সাগর দাস।
এদিকে ব্যবসা—বাণিজ্যের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও নেমে এসেছে স্থবিরতা। ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা জসীম মিয়া বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মোটর চালিয়ে ট্যাংকিতে পানি তোলা যাচ্ছে না। এই তীব্র গরমে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে।
সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অয়ন নৃত্য’—এর সাধারণ সম্পাদক সৌরভ অধিকারী অয়ন বলেন, বিদ্যুৎ এখন কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মৌলিক চাহিদা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যুতের অভাবে রাতে ঘুম না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না।
অন্যদিকে হাওর মন্ত্রণালয় বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কুদরত পাশা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সুনামগঞ্জের বহু পরিবার দিনে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে। মানুষের মনে হচ্ছে বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে আসে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে দ্রুত টেকসই পরিকল্পনা প্রয়োজন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল আহমাদ জানান, ৩৩ কেভি ইনকামিং এক্সএলপিই কেবলে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জরুরি মেরামতের জন্য শাটডাউন নিতে হয়েছে। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী সকাল ৮টায় শাটডাউন দেওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির কারণে দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে মেরামতের কাজ শুরু হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের কষ্ট কমাতে আপৎকালীন দ্রুত পাওয়ার পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চালানো হয়। কেবল ব্লান্ডিং ও টার্মিনেশনের কাজ শেষে শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সুনামগঞ্জ শহরের বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন