প্রকাশিত: ২১ আগস্ট, ২০২৬ ০০:১৭
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় জাকিয়া আক্তার নিহা নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে সুরমা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ’মায়ের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার বিকালে কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও এলাকা থেকে সৎ’মা আম্বিয়া বেগমকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রী তাজ উদ্দিন তার প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আম্বিয়া বেগম (৫০) নামের এক নারীকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রথম পক্ষের সন্তানদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন আম্বিয়া বেগম।
গেল ১৭ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিশু জাকিয়া আক্তার নিহা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সৎ’মা আসমা বেগম জোরপূর্বক শিশুটিকে সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যান। পরবর্তীতে নিহা একা বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সন্দেহ হয়। এ বিষয়ে ১৮ আগস্ট প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে তল্লাশি চালায়।
পরদিন ১৯ আগস্ট সকাল ৬ টায় গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় নিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহার মরদেহের ডান উরুর ওপরে ও নিচে দুটি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনাস্থলে জবানবন্দিতে আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুতের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠায়।
এ ঘটনায় শিশুটির পিতা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সৎ’মা আসমা বেগম ও অজ্ঞাতনামা ২—৩ জনকে আসামি করে সুনামগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া বেগম তার সৎ মেয়ে জাকিয়া আক্তার নিহাকে হত্যার পর বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। তবে মামলার তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। আটক আম্বিয়া বেগম বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং শিশুটির মৃত্যুর পুরো ঘটনা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত গত সপ্তাহেও সুনামগঞ্জে পিতা কর্তৃক হৃদয়বিদারকভাবে দুই শিশু সন্তান হত্যার ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশু সন্তানকে ঘুমন্ত অবস্থায় হাওরে ফেলে হত্যা করেন বাবা। বাবা কামরুল হাসান নিজেই পুলিশের কাছে স্বীকার করে, সন্তানদের সে হত্যা করেছে। হতভাগ্য এই দুই শিশু সন্তানের নাম তুলনা আক্তার, তার বয়স সাড়ে তিন বছর। অপর সন্তানের নাম মুহাদ্দিস, তার বয়স ছয় বছর। শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ ওই দুই শিশুর লাশ দেখার হাওর থেকে উদ্ধার করেছে।
পুলিশ জানায়, দিরাইয়ের চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল হাসান। তাঁর চার সন্তান। স্ত্রী আফরোজা বেগমের (২৫) সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া হতো কামরুলের।
পুলিশকে কামরুল জানায়, গেল শুক্রবার পারিবারিক কলহের জের ধরে আফরোজা তার সন্তানদের মারপিট করে। এ ঘটনায় তার (কামরুলের মা) মা ফুলজান বেগম বিরক্ত হয়ে আফরোজাকে কথা বার্তা বলায় আফরোজা শ^াশুরি ফুলজানকেও মারপিট করে।
পরে দুই সন্তান মুহাদ্দিস ও তুলনাকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে সিলেটে চলে যায় কামরুল। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে দুই সন্তানসহ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাত কাটায় সে। পরদিন সিলেট শহরে ঘুরে বাচ্চাদের নিয়ে রাতে আবার ওসমানীতে গিয়ে ঘুমায় বাবা ও দুই সন্তান। রোববার সন্ধ্যায় সিলেট থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে কামরুল রওয়ানা দেয় দিরাইয়ের উদ্দেশ্যে। পথে ওদেরকে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায় কামরুল। রাত সাড়ে আটটায় শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকায় ঘুমন্ত তুলনাকে দেখার হাওরে ফেলে দেয় পাষণ্ড বাবা। এরপর দিরাই সড়ক মোড় পাড় হয়ে মুহাদ্দিসকেও একই হাওরে ফেলে হত্যা করে সে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন