প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:৪৬
দেখার হাওর সুরক্ষায় মহাসিং নদী খনন, খাল—বিল পুনঃখনন এবং ফিশ পাস সুবিধা রেখে জলকপাট (স্লুইস গেইট) স্থাপনের দাবিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার জানিগাঁও হাইস্কুলের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কমিটি গঠন করা হয়।
নাজিমউদ্দীন’র সভাপতিত্বে এবং শাহাবুদ্দিন’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদের ‘ক্রুগ মিশন’ পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পোল্ডার পদ্ধতির কারণেই দেখার হাওরে বারবার বিপর্যয় নেমে আসছে। গত বছর অকাল জলাবদ্ধতায় চোখের সামনে বোরো ধান তলিয়ে গেলেও কৃষকদের কিছুই করার ছিল না।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ২০১৭ সালের ভয়াবহ অকাল বন্যায়ও হাওরের বোরো ফসল সম্পূর্ণরূপে তলিয়ে যায়। ওই সময় ঋণের বোঝা মেটাতে বহু কৃষক তাদের বেঁচে থাকার শেষ সম্বল জমাজমি বিক্রি করতে বাধ্য হন। ফলে এই দুর্নীতিগ্রস্ত উন্নয়ন পরিকল্পনার কুফলে প্রকৃত কৃষকরা ভূমিহীন হয়ে উচ্ছেদ হচ্ছেন এবং জমি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে জোতদার ও মহাজনদের হাতে।
বক্তারা চলতি বোরো মৌসুম শুরুর আগেই দেখার হাওরের অভ্যন্তরে মহাসিং নদী ও সংশ্লিষ্ট খাল—বিল খননসহ অবিলম্বে জলকপাট স্থাপনের জোরালো দাবি জানান। দাবি আদায় না হলে হাওরাঞ্চলের কৃষক ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
সভা শেষে আন্দোলন সুসংগঠিত করতে নাজিম উদদীনকে আহ্বায়ক এবং শাহাবুদ্দিন ও আবিদুর রহমানকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৫ সদস্যের আন্দোলন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন শামসু মিয়া ও হাফিজ উদ্দিন।
সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সভাপতি রত্নাংকুর দাস জহর, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি সুনামগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল এবং স মিল শ্রমিক ফেডারেশনের সহ—সভাপতি আইয়ুবুর রহমানসহ স্থানীয় কৃষক নেতৃবৃন্দ।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন