প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৯
জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৪৬৪ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও প্রধান শিক্ষকসহ অনুমোদিত শিক্ষক পদ রয়েছে মাত্র আটটি। এরমধ্যে কর্মরত আছেন ছয়জন। সহকারী শিক্ষকের দুইটি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাক প্রাথমিকের ৪ বছরের উর্ধ্বে ২৫ জন এবং ৫ বছরের উর্ধ্বে ৪৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। এ ছাড়া প্রথম শ্রেণিতে ১০০ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৭৫, তৃতীয় শ্রেণিতে ৮৫, চতুর্থ শ্রেণিতে ৮১ এবং পঞ্চম শ্রেণিতে ৫৩ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান নিশ্চিত করতে প্রতিটি শ্রেণিকে দুইটি শাখায় ভাগ করে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্ধারিত শিক্ষক শিক্ষার্থী অনুপাত অনুযায়ী প্রতি ৪০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা। সে হিসাবে ৪৬৪ জন শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন প্রায় ১২ জন শিক্ষক। কিন্তু অনুমোদিত আটটি পদের বিপরীতেই বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে একজন শিক্ষককে গড়ে ৭৭ জনের বেশি শিক্ষার্থীর দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত এই চাপের প্রভাব পড়ছে পাঠদানেও। বিশেষ করে প্রতিটি শ্রেণিকে দুটি শাখায় ভাগ করে পাঠদান করায় সীমিতসংখ্যক শিক্ষককে একাধিক শ্রেণি ও শাখার দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে।
অভিভাবকরা জানান, শুধু দুটি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ৪৬৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে আটটি অনুমোদিত শিক্ষক পদই বর্তমান বাস্তবতার তুলনায় অপ্রতুল। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যালয়টির অনুমোদিত শিক্ষক পদ বাড়ানোর পাশাপাশি শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করা জরুরি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী শিক্ষক পদ বাড়ানো হলে শ্রেণি ভিত্তিক পাঠদান আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং শিক্ষার্থীরাও মানসম্মত পাঠদানের সুযোগ পাবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে লিখিত আবেদন করলে বিষয়টি যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন