প্রকল্প নেই, তবুও কুড়াল কেন সাড়ে চার হাজার গাছে?

প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট, ২০২৬ ২২:৩৬

সুনামগঞ্জ—সাচনা সড়কের ১৯ কিলোমিটারজুড়ে সারি সারি গাছ। পথচারীদের ছায়া, পাখির আশ্রয় আর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এই বৃক্ষরাজির প্রায় সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প না থাকলেও কেন এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটা হচ্ছে এ প্রশ্ন তুলেছেন পরিবেশকর্মীরা। 

‘দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর’—এর নিয়মিত বিশেষ আয়োজন ‘খবরনামা’য় এ বিষয়ে কথা বলেছেন রাজনীতিবিদ ও পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিচে তুলে ধরা হলো।

 

প্রশ্ন: সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো কাজ না থাকলেও সাড়ে চার হাজার গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আপনার দৃষ্টিতে এর যৌক্তিকতা কতটুকু?

অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার: এর কোনো যৌক্তিকতা নেই। একটি গাছ পরিপক্ব হতে দীর্ঘ সময় লাগে। মাত্র ১০ থেকে ১২ বছর আগে লাগানো গাছ এখন কেন কাটা হবে, সেটাই বড় প্রশ্ন। বিশেষ করে যখন এই সড়ক প্রশস্তকরণের কোনো প্রকল্প নেই।

উপকারভোগীদের লাভের কথা বলে গাছ কাটার যে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, সেটিও পরিষ্কার নয়। অনেক উপকারভোগীই জানেন না, গাছ কাটা হচ্ছে এবং তারা এর কোনো সুবিধা পাবেন কি না, এটাও পরিস্কার নয়। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

তিনি বলেন, এখানে কোনো একটি মহল নিজেদের স্বার্থে কাজ করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। জনগণ ও উপকারভোগীদের পরিষ্কারভাবে না জানিয়ে এভাবে গাছ কাটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

 

প্রশ্ন: ২০২৪ সালেও গাছ কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তখন পরিবেশকর্মীদের আন্দোলনের মুখে তা বন্ধ হয়েছিল। এবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে। এতে গাছ কাটা বন্ধ হবে বলে মনে করেন?

চিত্তরঞ্জন তালুকদার: গাছ কাটা বন্ধ হতেই হবে। হাওরাঞ্চলের মানুষের জন্য এসব গাছ শুধু কাঠ নয়, এগুলো আমাদের জীবন ও পরিবেশের অংশ।

বন বিভাগ ফলদ বা অন্য কোনো গাছ লাগানোর কথা বললেও তার জন্য এত অল্প বয়সী গাছ কেটে ফেলার কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। একটি গাছ বড় ও পরিপক্ব হতে অন্তত ২৫ বছর সময় প্রয়োজন। মাত্র ১০ বা ১২ বছরের গাছ কেটে ফেলা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালে যেমন মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, এবারও দাঁড়াতে হবে। প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

প্রশ্ন: গাছ কাটা বন্ধ না হলে বন বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের কর্মসূচি কতটা কার্যকর হতে পারে?

চিত্তরঞ্জন তালুকদার: অবশ্যই কার্যকর হতে পারে। কারণ মানুষ জানতে চায়, কোন নিয়মে এবং কী প্রক্রিয়ায় গাছ লাগানো হয়েছিল, আবার কোন শর্তে এখন তা কাটা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জনগণকে এসব বিষয়ে কোনো স্পষ্ট ধারণা দেওয়া হয়নি। ফলে পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানাতেই হবে।

 

 

প্রশ্ন: প্রশাসনের কাছে আপনার কী দাবি?

চিত্তরঞ্জন তালুকদার: প্রশাসনকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। জেলায় কোথায়, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, তা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনেরও রয়েছে।

গাছ কাটার পেছনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ করে নতুন করে আরও গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে।

তিনি বলেন, গাছ পরিপক্ব হওয়ার আগে এভাবে কেটে ফেলা উচিত নয়। বড় ও পরিণত হওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী গাছ ব্যবস্থাপনা করা যেতে পারে। কিন্তু এখন যেভাবে হাজারো গাছ কাটা হচ্ছে, তা বন্ধ হওয়া জরুরি।

 

 

বৃক্ষ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য নয়, মানুষের জীবনেরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসব গাছ পথচারীদের ছায়া দেয়, পাখিদের আশ্রয় দেয়, ফল দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

সুনামগঞ্জ—সাচনা সড়কের সাড়ে চার হাজার গাছের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। পরিবেশকর্মীদের দাবি, অবিলম্বে বৃক্ষনিধন বন্ধ করে বিষয়টি স্বচ্ছভাবে তদন্ত করতে হবে। তিলে তিলে বেড়ে ওঠা এসব বৃক্ষ যেন অকারণে কুড়ালের আঘাতে হারিয়ে না যায়Ñএমন প্রত্যাশাই এখন সুনামগঞ্জবাসীর।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার