প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৬
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম গ্রাম ঠাকুরভোগ। বর্ষায় চতুর্দিকে শুধু পানি আর পানি। সামান্য বৃষ্টি হলেই গ্রামটিতে চলাচলের প্রধান মাধ্যম মেঠোপথগুলো হয়ে ওঠে দুঃখ—দুর্দশার জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। বিশেষ করে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থী, বয়োজ্যেষ্ঠ নারী—পুরুষ কিংবা রোগীদের জন্য এসব পিচ্ছিল, কাদাযুক্ত সড়ক হয়ে উঠে বর্ণনাতীত কষ্টের নাম।
এমন বাস্তবতার কথা মাথায় রেখে এলাকাবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সুনামগঞ্জ—৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বিশেষ বরাদ্দে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ গ্রামের বাসিন্দাদের মাঝে। পৃথক বরাদ্দে দেওয়া সাড়ে ১৩ লক্ষ টাকায় গ্রামটিতে নির্মিত হয়েছে দুইটি সিসি ঢালাই সড়ক। ৫ লক্ষ টাকায় ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক এবং দুইবারের বরাদ্দকৃত সাড়ে ৮ লক্ষ টাকায় নির্মিত হয়েছে রজনীগঞ্জ সড়ক থেকে পূর্বপাড়ার বিলাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের সড়ক।
স্কুলের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় সরাসরি উপকৃত হয়েছেন শিক্ষক—শিক্ষার্থী এবং পূর্বপাড়ার সড়কে হাসি ফুটেছে গ্রামবাসীর মুখে। তারা জানান, বিগত বছরগুলোতে খুব কষ্ট করে স্কুলে যেতে হতো গ্রামের ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের। কাদা মাড়িয়ে যেতে হতো বলে স্কুলে যাওয়া অনেকটা অনীহায় পরিণত হয়েছিল শিক্ষার্থীদের। উপস্থিতি ছিল একেবারে কম। বৃষ্টি হলে পথিমধ্যে পা পিছলে কাদাজলে একাকার হতে হতো সোনামণিদের। বৃষ্টির দিন অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়ার কথা চিন্তাও করত না। অনেকে আসত ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় করে।
সড়কটিতে বরাদ্দ দেওয়ায় দুর্ভোগ কমেছে স্কুল পরিবারের। এদিকে, ঠাকুরভোগ গ্রামের পূর্বপাড়ার সড়কের সংযোগ হয়েছে শান্তিগঞ্জ—রজনীগঞ্জ সড়কের সঙ্গে। পূর্বপাড়ার সড়কটিতে ৮০০ ফুট দৈর্ঘ্যের জায়গায় পাকাকরণ করা হয়েছে। এতে দুর্দশা কমেছে সড়কটি ব্যবহারকারী ঠাকুরভোগ ও সাপেরকোনা গ্রামের হাজারো মানুষের। তারা এখন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারেন এসব রাস্তায়।
এলাকাবাসীর দাবি, শান্তিগঞ্জ—রজনীগঞ্জ সড়কটি নির্মিত হলে সরাসরি উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়কপথের সংযোগ স্থাপন হবে ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, শান্তিপুর, টাইলা, দুর্বাকান্দা, দুর্গাপুরসহ পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের সকল মানুষের। এতে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, লেখাপড়ার উন্নয়নসহ জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আসবে ইউনিয়নবাসীর।
ঠাকুরভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মরিয়ম তালুকদার ও তানিশা জান্নাত বলেন, আগে কাদা—পানির কারণে স্কুলে আসতে পারতাম না। এখন দৌড়ে স্কুলে আসতে পারি।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক সমীরণ চন্দ্র দাস বলেন, আমি যখন এই স্কুলে যোগদান করি, তখন ৫—৬ ফুট জায়গা খুবই কর্দমাক্ত ছিল। জুতা হাতে নিয়ে স্কুলে আসতে হতো। বিএনপি সরকার গঠন করার পর, মাননীয় এমপি মহোদয়ের বরাদ্দে রাস্তাটি সিসি ঢালাই হয়েছে বলে আমরা এখন জুতা পায়ে দিয়ে নির্বিঘ্নে স্কুলে আসতে পারি। আগে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি অনেক কম ছিল, এখন আমাদের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০ শতাংশের উপরে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন