অপবাদ সহ্য করতে না পেরে তরুণের আত্মহত্যা!

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৩৪

এমরান হোসেন (২৩) নামের এক তরুণের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বেড়াজালী গ্রামে নিজ বাড়ির বারান্দায় বাঁশের আড়ার সঙ্গে রশি প্যাঁচানো অবস্থায় তাঁর লাশ পাওয়া যায়।

 


এমরান ওই গ্রামের আবদুল হাসিমের ছেলে। খবর পেয়ে দুপুরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তাঁর শার্টের পকেট থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

 


বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রতন সেখ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে আছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। চিঠির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
এমরানের ছোট ভাই তুহিন হোসেন বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে বেড়াজালী বাজার থেকে স্থানীয় বাসিন্দা চান মিয়ার একটি পানির মোটর ও কিছু বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়। পরে এমরান ও একই গ্রামের নিলু মিয়ার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলেন চান মিয়ার ছেলে আবুল ফজল। এ নিয়ে গত শুক্রবার রাতে বেড়াজালী বাজারে গৌরারং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক শওকত আলীর কার্যালয়ে সালিস হয়।

 


আবদুল হাসিমের অভিযোগ, সালিসে উপস্থিত সাক্ষীরা চুরির বিষয়ে কিছু জানেন না বলে তথ্য দেন। এরপরও চেয়ারম্যান ও চান মিয়া তাঁর ছেলের ওপর চুরির দায় চাপান। সালিসে এমরানের মা সাহারা বেগম কথা বলতে চাইলে চেয়ারম্যান তাঁদের হুমকি দেন এবং মারধরের চেষ্টা করেন। পরে আগামী সোমবারের মধ্যে চুরি যাওয়া মোটর ফেরত দিতে বলা হয়। তা না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে পুলিশে দেওয়ার কথা বলা হয়।

 


আবদুল হাসিমের দাবি, সালিসে নিজের ও পরিবারের অপমান সহ্য করতে না পেরে এমরান মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। শুক্রবার রাতে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে অনেক বোঝান। পরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। সকালে ঘুম থেকে উঠে তাঁরা বারান্দায় এমরানের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
আবদুল হাসিমের ভাষ্য, ‘এমরান আমার সোনার ছেলে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা চুরির অপবাদ তোলা হয়েছে। চেয়ারম্যানের সালিসে আমাদের সবাইকে অপমান করা হয়েছে। এ জন্যই ছেলে মারা গেছে। আমি বিচার চাই।’

 


তবে ইউপি চেয়ারম্যান শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সালিসে এমরান বা তাঁর পরিবারের কাউকে তিনি হুমকি দেননি। তাঁদের আত্মীয়ের সঙ্গে টাকাপয়সার লেনদেন নিয়ে পারিবারিক বিরোধ আছে। এমরান ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।
চেয়ারম্যান বলেন, আগামী সোমবার ওই পারিবারিক বিরোধ নিয়ে আবার বসার কথা ছিল। এর মধ্যে মোটর পাওয়া গেলে সেদিন সেটি নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। এর বেশি কিছু বলা হয়নি।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার