প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪৭
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালকে ৫০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার পর শনিবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক ৯১৬ রোগী ভর্তি রয়েছে। এরমধ্যে ৪০০ এর বেশি শিশু রোগী। এদের বেশির ভাগেরই জ¦র—সর্দি ও নিমোনিয়া। হাম সন্দেহের রোগী ১০০ ছাড়িয়েছে। রোগীর জায়গা সংকুলান করতে পারছে না হাসপাতাল কতৃর্পক্ষ। মেঝেতে, হাঁটার পথে নিচে গাদাগাদি করে থাকছেন রোগীরা। শনিবার হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ৪০০ রোগী দেখেছেন একজন শিশু ডাক্তার।
শনিবার বিকাল সাড়ে চারটায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে সাত তলার শিশু ওয়ার্ডে প্রবেশের অবস্থা ছিল না। মেঝে পথে সবখানেই জ¦র, সর্দি ও কাশির রোগি নিয়ে কোনভাবে বসার চেষ্টা মায়েদের। শহরতলির জানীগাঁওয়ের সুমি বেগমের ছোট্ট শিশু ফাতেমা জান্নান রাবিয়াকে নিয়ে প্রবেশ পথেই বসা ছিলেন নানী জহুরা খাতুন। বললেন, ‘চারদিন হয় এসেছি, রোগীর এতো চাপ ভাতের তালা—বাসন হাত থেকে নিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছেন খাবার সরবরাহকারীরা। আজ কেবল খাবার পেয়েছি। এতো ভিড় রোগীর, কে কাকে সামাল দেবে। আজ ডাক্তার এসেছিলেন। বাচ্চাকে দেখে গেছেন। এর আগে ডাক্তারও এসে দেখেন নি। সন্ধ্যার পর ওষুধ আনতে বলেছেন, নার্সগণ।’
.jpg)
হাসপাতালের আটতলার আইসিইউ কক্ষের সামনের মেঝেতেও গিয়ে একই অবস্থা দেখা গেল। ওখানেও প্রবেশ পথে বিছানা চাদর বিছিয়ে সাত বছরের শিশু রিয়াদকে নিয়ে বসা ছিলেন শান্তিগঞ্জের পাগলা এলাকার আঞ্জব আলী। বললেন, তিনদিন নিচের তলায় ছিলাম, শিশু ওয়ার্ডের মেঝেতে আজ হাম সন্দেহে আমার ছেলেকে উপরের তলায় পাঠানো হয়েছে। আজকেই প্রথম ওষুধ হিসেবে একটি ইনজেকশন দিয়েছে।
আঞ্জব আলী কিংবা জহুরা খাতুন নয় অসংখ্য রোগী এই করুণ অবস্থার কথা জানিয়ে বললেন, এতো রোগী রয়েছেন, এক বিছানায় কমপক্ষে দুই জন শিশুকে রাখতে হচ্ছে।
বাবুর্চি মো. মজনু মিয়া’র সামনেই খাবার না পাওয়ার কথা রোগীর স্বজনরা বলছিলেন। মজনু মিয়ার উত্তর ছিল ২৫০ রোগীর খাবার বিতরণ করা হচ্ছে ৯০০ এর উপরে রোগীকে। এটা তো হবেই। তিনি বললেন, একটুকরো মাছকে তিন টুকরো করা হচ্ছে। একজনের ভাত তিনজনকে ভাগ করে দেয়া লাগছে। পাঙ্গাস মাছের টুকরো তুলে দেখিয়ে তিনি বললেন, ‘দেখুন মাছের সাইজ, এভাবে করা ছাড়া কোন উপায় নেই।’
.jpg)
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আহমদ হোসেন বললেন, আমাদের ক্ষমতা আছে ২৫০ জন রোগীকে সেবা দেয়ার। আজকে সকালে ৯০০ এর অধিক ভর্তি হওয়া রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। এই হাসপাতাল উদ্বোধন হওয়ার পর এটাই সর্বোচ্চ রেকর্ড সংখ্যক রোগী। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি হলো শিশু রোগী। শিশুর রোগীর সংখ্যা ৩০০ এর অধিক। অর্থাৎ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল শিশুতেই কাভার হয়ে গেছে। এর সাথে হামের রোগী প্রচুর। হামের রোগী ১০০ এর বেশি। হাম রোগীদেরকে আইসোলেশন করার জন্য একটা ফাঁকা জায়গা ছিল আইসিইউয়ের পাশে, ওখানে মেঝেতে এসব রোগী রাখা হয়েছে। যাতে হাম রোগীদের একটু পৃথকীকরণ করে যতটুক সম্ভব, সেবা দেওয়া যায়। চিকিৎসকের সংকটও আছে। মেডিকেল অফিসার থাকার কথা ৪৯ জন। আছে ১২ জন। এজন্য মেডিকেল অফিসাররা জরুরি সেবা দেওয়া ছাড়া খুব বেশি ভূমিকা পালন করতে পারছে না। চিকিৎসকদের প্রমোশন হয়েছে। সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, অধ্যাপক হয়ে মেডিকেল কলেজে ট্রান্সফার হয়েছেন। এখন কনসালটেন্ট প্রয়োজন হাসপাতালে। একজন শিশু কনসালটেন্ট শনিবার ৪০০ এর মত শিশুকে চিকিৎসা দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
খাবারের বিষয়ে তিনি বললেন, ২৫০ জনের খাবার যদি ৯০০ জনকে খাওয়ানো হয়, তাহলে খাবারে ভাগটা কম পড়া স্বাভাবিক। তিনি জানালেন, অবস্থার আরও অবনতি হলে, অন্য জায়গা থেকে হলেও আমাদেরকে চিকিৎসক আনতে হবে। আবহাওয়ার কারণে এভাবে রোগী বাড়ছে মন্তব্য করে তিনি বললেন, শিশু ওয়ার্ডের পাশে হামের রোগী রাখা হতো আগে এটিও একটি কারণ হতে পারে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন