গড়ার আগেই বিপন্ন পাখির অভয়ারণ্য

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:৪১

টিলা ও জলাভূমির ৩২০ একর জায়গাজুড়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)। ভূমির বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী পুরো এলাকায় রয়েছে প্রাণপ্রকৃতির ছাপ। টিলাভূমির সবুজ বন আর সমতলে জলাভূমি ঘিরে আছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির বিচরণ। এই বিচরণকে নির্বিঘ্ন করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি লেকের মধ্যে পাখির অভয়ারণ্য গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু সেই লেক ভরাট করে সেখানে গ্যারেজের নির্মাণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ইতিমধ্যে অর্ধেক লেক ভরাট করা হয়েছে, যা পাখির অভয়ারণ্যের জন্য নির্মিত টিলা পর্যন্ত কর্তন হয়েছে। এতে করে পাখির অভয়ারণ্যটি গড়ার আগেই বিপন্ন বলে মনে করছেন পরিবেশ সচেতনরা।


২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ফুডকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় ৮৯ হাজার ৭২৭ স্কয়ার ফিট জায়গায় একটি লেক খননের কাজ শুরু হয়। লেকের চারপাশে থাকবে ওয়াকওয়ে ও লেক—ওয়াকওয়ের মধ্যে ১২ হাজার ৭০১ স্কয়ার ফিট জায়গা জুড়ে পাখির অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত রাখার সিধান্ত নেয় তৎকালীন প্রশাসন।
কিন্তু বর্তমানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় নির্মিত লেকের অর্ধেক ভরাট করে পাখির অভয়ারর্ণের জন্য নির্মিত টিলা ঘেঁষে গ্যারেজ নির্মাণের কাজ চলছে। এতে করে লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি পাখির অভয়ারণ্য সংকটাপন্ন অবস্থায় আছে।

 


এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটির সভাপতি জাহ্নবী দত্ত বলেন, লেকটি নির্মাণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল শাবিপ্রবির হারিয়ে যাওয়া জীববৈচিত্র্যকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া। আগে বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখির আবাসস্থল ছিল আমাদের ক্যাম্পাস। এই লেকটির মাধ্যমে সেই বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনার যতটুকুই সম্ভাবনা ছিল, বর্তমানের ভরাট কার্যক্রম তা শাবিপ্রবির জন্য বিরাট ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে।

 


অভয়ারণ্য গড়ার আগেই বিপন্ন হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিলেটে অভয়ারণ্য গড়া ও বৃক্ষরোপণ করে পরিচর্যায় স্বেচ্ছাসেবী পরিবেশকর্মী শাহ সিকান্দার আহমদ শাকির। তিনি বলেন, পশুপাখির বংশবৃদ্ধির জন্য শুধু একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা অভয়ারণ্য ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, বরং সেই এলাকার পরিবেশগত শান্ত ও নিরাপদ অবস্থা নিশ্চিত করা সমানভাবে জরুরি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা ও পরিবেশগত তথ্যে দেখা গেছে যে, যানবাহনের শব্দ ও চলাচল বন্যপ্রাণী ও পাখিদের প্রজনন চক্রকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। শাবিপ্রবিতে যে জায়গাটিকে পাখিদের আশ্রয় কেন্দ্র ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে গ্যারেজ নির্মাণ পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর জন্য অনিরাপদ। এরকম পরিস্থিতিতে পাখির অভয়ারণ্য নির্মাণ করা প্রায় অসম্ভব। কারণ পাখিরা তাদের প্রজনন মৌসুমে সঙ্গী আকর্ষণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ডাক বা গান ব্যবহার করে। 

 


বিভিন্ন গবেষণা ও বাস্তবতার অভিজ্ঞতা থেকে শাকির আরও বলেন, দেখা গেছে যানবাহনের অতিরিক্ত শব্দের কারণে পাখিরা নিজেদের ডাক একে অপরের কাছে পৌঁছাতে পারে না। ফলে তাদের প্রজনন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে এবং নতুন বংশধর আসার হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। দীর্ঘমেয়াদী এই মানসিক চাপ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং প্রজননক্ষমতা নষ্ট করে। অনেক পাখি শব্দদূষণের কারণে ডিম ফোটাতে ব্যর্থ হয় বা বাসা ছেড়ে চলে যায়। অতিরিক্ত শব্দদূষণের কারণে বন্যপ্রাণী ও পাখির শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়। তাই আমি মনে করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত পাখির অভয়ারণ্যটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

 


যোগাযোগ করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. জয়নাল ইসলাম চৌধুরী বলেন, এটা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। এখানের মাটির কোয়ালিটি ভালো না। তাই যে গাছগুলো লাগানো হয়েছে সেগুলোও ঠিকমতো বড় হচ্ছে না। এই বিষয়টা নিয়ে আমরা কাজ করব।

 


এ বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর যখন এই ব্যাপারে জানতে পারি তখন এটা রক্ষা করার জন্য একটা কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। আবারো কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসবো। আমি চাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সব দিক থেকেই উন্নতি করতে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার