প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২৮
দোয়ারাবাজারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ৮৫ বছরের বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। র্যাব—৯ ও র্যাব—১১ এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম জিয়াউর রহমান (৩২)। তিনি দোয়ারাবাজার উপজেলার হাবিবনগর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে এবং এ হত্যা মামলার এজাহারনামীয় ৪ নম্বর আসামি।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৮ আগস্ট (শুক্রবার) রাতে র্যাব—৯ (সিপিসি—৩, সুনামগঞ্জ) এবং র্যাব—১১ (সিপিসি—২, কুমিল্লা)—এর একটি যৌথ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন বাজগড্ডা বাজার এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণ ও র্যাবের তদন্তে জানা যায়, দোয়ারাবাজারের সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা নিহত মোহাম্মদ আলীর জমি নিজেদের নামে লিখে নেওয়ার জন্য তার ছেলে ইসমাইল মিয়া (৫ নম্বর বিবাদী) ও পুত্রবধূ হোছনা বেগম (১ নম্বর বিবাদী) দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় বৃদ্ধের ওপর নির্যাতন ও পারিবারিক কলহ বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে পুত্রবধূ হোছনা বেগম শ্বশুরকে হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং স্থানীয় রুহুল আমিন (২ নম্বর বিবাদী)—এর সাথে ৫০ হাজার টাকার চুক্তি করেন। চুক্তি অনুযায়ী গত ১৪ আগস্ট গভীর রাতে রুহুল আমিন, নজরুল ইসলাম (৩ নম্বর বিবাদী) ও জিয়াউর রহমান (৪ নম্বর বিবাদী) হোছনা বেগমের সহযোগিতায় ঘরে প্রবেশ করেন। তারা বৃদ্ধ মোহাম্মদ আলীর গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহতের নাতনি বাদী হয়ে দোয়ারাবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং—২৪, তারিখ: ১৬/০৮/২০২৬) দায়ের করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে র্যাব—৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে। এর আগে গত ১৮ আগস্ট ঘটনার সাথে জড়িত এজাহারনামীয় প্রধান তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব—৯। সর্বশেষ জিয়াউর রহমানকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে মামলার এজাহারনামীয় চার আসামিকেই আইনের আওতায় আনা হলো।
র্যাব—৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অপরাধ দমনে এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন