প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩২
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে আব্দুল মতিন হত্যা
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মৌলভীবাজারে বহুল আলোচিত আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলার এজাহারনামীয় তদন্তপ্রাপ্ত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব—৯। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে জগন্নাথপুর থানাধীন আশারকান্দি ইউনিয়নের অলিতলী এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম জুয়েল মিয়া (৩০)। তিনি সিলেট জেলার বালাগঞ্জ থানার কিত্তেজালালপুর গ্রামের সুরুজ মিয়ার ছেলে।
জানা যায়, নিহত আব্দুল মতিন মৌলভীবাজার সদর মডেল থানাধীন শমসেরগঞ্জ দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা। নিজ ভাই—বোনদের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ ও আদালতে একাধিক মামলা চলছিল। গত ২৮ জুন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে সাক্ষ্য দিতে বাড়ি থেকে বের হন মতিন। সাক্ষ্য প্রদান শেষে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তা বন্ধ পান।
পরবর্তীতে ওই দিনই রাত পৌনে ১১টার দিকে স্থানীয় প্রতিবেশীর মাধ্যমে নিহতের স্ত্রী জানতে পারেন সুন্দর মিয়ার পুকুরের পাশে পাকা রাস্তার ওপর আব্দুল মতিনের রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে। খবর পেয়ে স্ত্রী ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে জখমপ্রাপ্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের অভিযোগ, সম্পত্তিগত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং—৩৭, তারিখ: ৩০/০৬/২০২৬ খ্রি., ধারা— ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড) দায়ের করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করলে র্যাব—৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব—৯, সিপিসি—২ (শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার) এবং সিপিসি—৩ (সুনামগঞ্জ)—এর একটি যৌথ আভিযানিক দল জগন্নাথপুরের অলিতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জুয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ০৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে উক্ত মামলায় জড়িত আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব—৯।
সিলেট র্যাব—৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন