দুষ্টের দমন ও ধর্ম প্রতিষ্ঠার মহালগ্ন

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৬

আজ জন্মাষ্টমী

শুভ জন্মাষ্টমী, সনাতন তথা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যময় একটি দিন। শাস্ত্রমতে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মানব রূপে মর্তে আবির্ভাব ঘটে। আজ থেকে প্রায় ৫ হাজার বছর আগে দ্বাপর যুগে এই দিনে এক বৈরী সমাজে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের উদ্দেশ্যে নিরাকার ব্রহ্ম বাসুদেব ও দেবকীর সন্তান হিসেবে পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়েছিলেন তিনি। দ্বাপর যুগে ওই সময় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম ছিল। কতিপয় রাজা রাজধর্ম, কুলাচার, সদাচার ভুলে গিয়ে স্বেচ্ছাচারিতা, অন্যায়, অবিচারে মত্ত হয়ে উঠেছিলেন। মথুরার রাজা কংস পিতা উগ্রসেনকে উৎখাত করে নিজে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন।

 


একই রকম ত্রাসের শাসন চালিয়েছিলেন জরাসন্ধ, চেদিরাজ, শিশুপালসহ অনেক রাজা। রাজা জরাসন্ধ নাকি একাই ৮৬ জন যুব রাজাকে বলি দেওয়ার জন্য কারাগারে রেখেছিলো। এ ছাড়া হস্তিনাপুরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন দুর্যোধন—দুঃশাসন। এ হেন অধর্ম—অবিচার নির্মূল করে ধর্ম প্রতিষ্ঠার জন্য শ্রীকৃষ্ণরূপে ভগবানের মর্তে আগমন। তাই শ্রীকৃষ্ণ মর্তে এসে একে একে কংস, শিশুপাল, জরাসন্ধ ও কৌরবদের দর্পচূর্ণ করে, তাঁদের পাপসৌধ ধ্বংস করে ধর্মরাজ্য স্থাপন করেন। ওই অত্যাচারী রাজাদের মধ্যে একজন কংসরাজের বোন দেবকীর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। দেবকীর অষ্টম সন্তানের হাতেই কংসের মৃত্যু হবে, এই দৈববাণী জেনে কংস দেবকী ও তাঁর স্বামী বাসুদেবকে কারারুদ্ধ করেন। একে একে দেবকীর ছয়টি সন্তানকে ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্র হত্যা করেন কংস। সপ্তম সন্তানের বেলায় দেবকীর গর্ভ স্থানান্তরিত হয় রোহিনীর গর্ভে। অষ্টম সন্তানরূপে জন্ম হয় শ্রীকৃষ্ণের। তাঁকে কংসের হাতে না দিয়ে ভগবান বিষ্ণুর কথামতো কৃষ্ণপক্ষের অন্ধকার রাতে ঝড়বৃষ্টিতে রেখে আসেন আরেক সদ্য মাতা যশোদার পাশে আর তাঁর কন্যাকে নিয়ে ফিরে আসেন কারাগারে। কংসরাজ শ্রীকৃষ্ণের সন্ধান না পেলেও হাল ছাড়েন না।

 


কংসরাজ তখন ছয় মাস পর্যন্ত বয়সের সব শিশুকে হত্যা করার জন্য পুতনা রাক্ষসীকে পাঠান। পুতনা রাক্ষসী স্তনে বিষ মাখিয়ে বিষমাখা স্তন্য পান করানোর ছলে শিশুদের হত্যা করেন। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণকে পুতনা রাক্ষসী মারতে ব্যর্থ হন। বরং স্তন্যপান কালে ঘাতক পুতনাই মারা যান। শৈশব থেকেই শ্রীকৃষ্ণ এরকম একের পর এক অতি মানবিক ঘটনা ঘটাতে থাকেন, যা লীলা হিসেবে আখ্যাত। লীলাচ্ছলেই শ্রীকৃষ্ণ ধ্বংস করেন কংসসহ অত্যাচারী রাজাদের।

 


মর্তে শ্রীকৃষ্ণের ১২৫ বছরের মনুষ্যরূপী লীলাকে সময়ানুসারে বৃন্দাবন লীলা (১ থেকে ১১ বছর), মথুরালীলা (১১ থেকে ২৩ বছর), দ্বারকালীলা (২৩ থেকে ১২৫ বছর) এ ভাগে ভাগ করেছেন শাস্ত্রকাররা। বৈষ্ণব দর্শন বলে, রাধিকাসহ ব্রজগোপীদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের সম্পর্কের মধ্য দিয়ে পরমাত্মা আর জীবাত্মার মধ্যকার সম্পর্ক প্রতিভাত। প্রেমরূপের বিপরীতে গীতায় আমরা পাই কর্মযোগের উপদেশক শ্রীকৃষ্ণকে। যাঁর মুখে নিষ্কাম কর্ম ও ব্রহ্মজ্ঞানে জীবসেবার বাণী। মহাভারতের আখ্যানে শ্রীকৃষ্ণ যুদ্ধের সারথী, রাজনীতির মন্ত্রক। শ্রীকৃষ্ণ একাধারে দার্শনিক, রাজনীতিবিদ, যোদ্ধা, অনাথের নাথ ও অগতির গতি। নররূপী নারায়ণ ও মঙ্গলময় ঈশ্বর। সমস্ত গুণের আধার। প্রতিটি লীলাই তার ভিন্নভিন্ন গুণের প্রকাশ। ভিন্ন ভিন্ন কর্মের ও লক্ষ্যের বাস্তবায়ন। লীলাচ্ছলেই শ্রীকৃষ্ণ সৎ ধর্মের, সৎ কর্মের, সদাচারের, বাণী প্রকাশ করেছেন, যা লোকশিক্ষা হিসেবে সর্বস্থানে সর্বকালেই প্রাসঙ্গিক। শ্রীকৃষ্ণের জন্মের এই দিনটি জন্মাষ্টমী উদযাপন করা হয়।

 


কর্মসূচি
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে জেলা জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শহরের কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী কালীবাড়ী নাট মন্দির প্রাঙ্গণে আজ শুক্রবার ও আগামীকাল শনিবার দুই দিনব্যাপী নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৮টায় বৈদিক স্তোত্র পাঠ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, হরিধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হবে। এরপর সকাল ৯টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, সাড়ে ১০টায় আলোচনা সভা, বেলা ১১টায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণের প্রতিকৃতিসহ বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা এবং দুপুর সাড়ে ১২টায় মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।

 


অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ—৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন (পিপিএম), সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক। 


সন্ধ্যা ৬টায় সমবেত গীতা পাঠ, সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রাত ৯টায় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ, রাত ১১.০১ মিনিটে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মঙ্গলঘট স্থাপন ও পূজা আরম্ভ হবে, রাত ১২.০১ মিনিটে বৈদিক স্তোত্র পাঠ, শঙ্খধ্বনি ও মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাব তিথি উদযাপন, রাত ১২.০৫ মিনিটে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ ও মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হবে।


৫ সেপ্টেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় নন্দ উৎসবের মাধ্যমে দুই দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার