পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ছাড়া উচ্ছেদ!

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১০

শাল্লা উপজেলায় পুনর্বাসন বা ক্ষতিপূরণ না দিয়েই উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন ও সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। গেল ৬ আগস্ট সুনামগঞ্জ—হবিগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের উদ্দেশ্যে শাল্লা গ্রামের কালনীরচরে পরিচালিত এই অভিযানে ৮টি পরিবারের বসতঘর ভেঙে দেওয়া হয় এবং ২—৩ শত গাছপালা গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ভিটেমাটি হারিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভুক্তভোগীরা।

 


কালনীরচরের আলকাছ আলী, আবু বক্কর, মোতালিব মিয়া, মৃত সুরুজ আলীর পরিবার, মিজানুর রহমান, মর্দু মিয়া, তফসীর আলম ও সোহাগ মিয়া সহ ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও খাবার সরিয়ে নেওয়ার জন্য এক ঘণ্টাও সময় দেওয়া হয় নি।

 

 

 

 

 


গৃহস্থালি সামগ্রী সরানোর আকুতি জানালে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে প্রতিবেশী লুৎফর রহমানকে সাময়িক হাতকড়া পরানো হয়। বর্তমানে হাঁড়ি—পাতিল ও থালাবাসন হারিয়ে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।


ভুক্তভোগীদের দাবি, অধিগ্রহণের নোটিশে ৩.৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো অর্থ না দিয়েই তাদের উচ্ছেদ করা হয়।

 


সুমনা আক্তার বলেন, হঠাৎ প্রশাসনের লোক এসে বলেছে ঘরবাড়ি সরাও। কিন্তু আমরা আমাদের ঘরে থাকা চাউল ও কিছু জিনিসপত্র সরানোর সময় চাইলেও তারা দেয় নি। এখন খোলা আকাশের নিচে আছি, ভাত খাওয়ার জন্যে একটা প্লেটও (থালা) নেই। আমাদের সব শেষ, এখন কিছুই নেই। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জিনিসপত্র সরানোর জন্যে এক ঘন্টা সময় চাওয়ায় প্রতিবেশী লুৎফর রহমানকে হাতকড়া পড়ানো হয়। পরে অবশ্য মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে তাকে ছেড়ে দেয়। লুৎফর রহমান বলেন, রাস্তা হোক আমরা অবশ্যই চাই। পাশাপাশি বাস্তহারা পরিবারকে পুনর্বাসন করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।

 


উচ্ছেদ অভিযানটি জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রবিউর রায়হান পরিচালনা করেন। তবে পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ ইস্যুতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর বক্তব্যে সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট। 
উচ্ছেদ পরিচালনাকারী সহকারী কমিশনার রবিউর রায়হান বলেন, এডিসি রেভিনিউ স্যারের নির্দেশনায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছি আমি এর বেশি কিছু জানি না। 
কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স জন্মভূমি নির্মাতা ও জন—জেবী কনস্ট্রাকশন। ঠিকাদার ওয়াহিদুজ্জামান বাবুলকে এ একাধিকবার ফোন করেও পাওয়া যায় নি। বক্তব্য চেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও কোন সাড়া মেলেনি। তবে ঠিকাদারের রাস্তার কাজে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা এ বিষয়ে কোনকিছু জানি না। এগুলো রোডস এন্ড হাইওয়ে জানে।

 


অধিগ্রহণ কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান জানান, অধিগ্রহণ আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী উন্নয়ন প্রকল্পের কারণে সরকারি খাস জমি থেকে ভূমিহীন পরিবার বাস্তুচ্যুত হলে তাদের বিকল্প স্থানে পুনর্বাসন করার নিয়ম রয়েছে। সওজ থেকে কোনো পুনর্বাসন পরিকল্পনা না দেওয়ায় এটি সম্ভব হয় নি। পূর্বের নোটিশে ‘ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে’ বাক্যটি ভুলবশত: লেখা হয়েছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।

 


সড়ক ও জনপথ বিভাগের হবিগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেনের দাবি, সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব বা চিঠি না পাওয়ায় তারা কোনো অর্থ বরাদ্দ করতে পারেন নি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুনামগঞ্জ ডিসি অফিসকে বলেন ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমাদেরকে যাতে একটা চিঠি দেয়।
শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সড়কের জায়গা খালি না করায় তাদের অপসারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগীদের শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে এবং মানবিক দৃষ্টিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

 


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তাপস শীল বলেন, খাস জমিতে থাকা অধিবাসীরা আইনত ক্ষতিপূরণ পান না। তবে মানবিক বিবেচনায় উচ্ছেদ হওয়া দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা করার জন্য সওজ—কে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার