সঞ্চয়ের টাকা হাতছাড়া, গ্রাহকেরা দিশেহারা

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪৪

ধর্মপাশা উপজেলার পাইকুরাটি বাজারে প্রায় দেড় বছর ধরে সঞ্চয় ও ডিপিএস কর্মসূচির নামে টাকা সংগ্রহের পর ‘সোনালী সেবা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৯ জুলাই থেকে অফিসটি বন্ধ থাকায় নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়া নিয়ে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় শতাধিক গ্রাহক।

 


স্থানীয় সূত্র জানায়, পাইকুরাটি বাজারে অফিস খুলে ডিপিএস ও বিভিন্ন সঞ্চয় কর্মসূচির কথা বলে নিয়মিত টাকা সংগ্রহ করত প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কোনো আগাম তথ্য ছাড়াই জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় থেকে অফিসে তালা ঝুলতে দেখেন গ্রাহকেরা।

 


১০৬ নম্বর ডিপিএস হিসাবের গ্রাহক হোসনে আরা জানান, তিনি টানা ১২ মাসে ১২ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। একই পরিস্থিতির শিকার সুভাষ পাল, ঝুটন দেবনাথ, মিষ্টারসহ আরও অনেকেই। সঞ্চয় হারিয়ে এখন সবাই দিশেহারা।

 


প্রতিষ্ঠানটির স্থানীয় ম্যানেজারের দায়িত্বে থাকা নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, তাঁকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি এবং তিনিই এর মালিক। তাঁর বাড়ি ধর্মপাশা সদরে। 


আবুল হোসেনের দাবি, নেত্রকোনার বারহাট্টা ও মোহনগঞ্জের আদর্শনগরেও ‘সোনালী সেবা’র আরও দুটি শাখা রয়েছে। তবে বর্তমানে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে নেই বলে জানান আবুল হোসেন।

 


সোনালী সেবার এরিয়া ম্যানেজার মোসাদ্দেক হোসেনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে কথিত মালিক বিকাশ রঞ্জন চৌধুরী দাবি করেন, ‘সোনালী সেবা’ নামে নিবন্ধিত কোনো প্রতিষ্ঠানই নেই। এটি মূলত ইলেকট্রনিক পণ্য (মোবাইল, ফ্রিজ, টিভি) সরবরাহের কথা বলে চালুর পরিকল্পনা ছিল। তবে তারা অনুমোদন ছাড়া ‘ক্রেডিট ফাংশন’ বা লেনদেন শুরু করায় ধর্মপাশার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

 


তার একই বক্তব্যের মধ্যে একবার প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব অস্বীকার এবং অন্যবার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলায় জালিয়াতির বিষয়টি আরও জোরালো রূপ নিয়েছে।
ধর্মপাশা উপজেলা সমবায় কার্যালয় সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ‘সোনালী সেবা’ নামে কোনো সমবায় প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন তাদের খাতায় নেই। সম্পূর্ণ অবৈধভাবেই এই অর্থ লেনদেন চালানো হচ্ছিল।

 


এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, এ ধরনের ভুয়া কার্যক্রম শুরুর সময়ই স্থানীয়দের সচেতন হওয়া ও প্রশাসনকে জানানো উচিত ছিল। ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার