প্রকাশিত: ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৮
মধ্যনগর উপজেলায় শুমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত ৩২০ মিটার দীর্ঘ সেতুর প্রবেশ দ্বারে স্থাপন করা সাইনবোর্ড থেকে ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ’ নামটি কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু এলাকায় গিয়ে সাইনবোর্ডের মাঝের অংশে কালো রঙ দিয়ে নামটি মুছে ফেলার চিত্র দেখা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯ বছর বয়সী মো. আয়াতুল্লাহ ছিলেন মধ্যনগর উপজেলার চামারদানী ইউনিয়নের জলুষা গ্রামের হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম ও মোছা. শোভা আক্তার দম্পতির ছোট ছেলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকার সখিপুর আনসার একাডেমি এলাকায় আন্দোলনে বড় ভাই সোহাগ মিয়ার সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন আয়াতুল্লাহ। আন্দোলনের সময় গুলিবর্ষণের মধ্যে বড় ভাই আহতদের উদ্ধার ও হাসপাতালে পাঠাতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে জনতার ভিড়ে আয়াতুল্লাহ নিখোঁজ হন।
দীর্ঘ ১১ দিন পর ১৬ আগস্ট রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে তাঁর লাশের সন্ধান পায় পরিবার। বুকে গুলির চিহ্ন ছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা যায়। পরে ১৭ আগস্ট রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
শহীদ আয়াতুল্লাহর স্মৃতি ধরে রাখতে স্থানীয় ছাত্র—জনতার উদ্যোগে শুমেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির প্রবেশমুখে তাঁর নামে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। ২০২৪ সালের আগস্টে স্থাপিত ওই সাইনবোর্ডের উদ্বোধন করেছিলেন আয়াতুল্লাহর বাবা হাজী মো. সিরাজুল ইসলাম।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ডের মাঝের অংশে কালো রঙ দিয়ে ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ’ নামটি মুছে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা এ কাজ করেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে।
মধ্যনগর গ্রামের বাসিন্দা ফজলে রাব্বি নামে একজন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, আমাদের মধ্যনগরের গর্ব আমাদের শহীদ আয়াতুল্লাহ। কাজটা ভালো করেনাই ভিতুর দল... আয়াতুল্লাহ, আবু সাঈদ— এই নামগুলো কি এভাবে মুছে ফেলা যাবে? এরা ইতিহাস হয়ে থাকবে। ইতিহাস বিকৃত করা যায়, কিন্তু মুছে ফেলা যায় না।
জুলাই যোদ্ধা অপি মিয়া বলেন, এটা নিঃসন্দেহে জুলাইবিরোধী শক্তির কাজ বলে আমরা মনে করছি। নামফলকের নাম মুছে দিয়ে ইতিহাস থেকে আয়াতুল্লাহকে মুছে ফেলা যাবে না। যে বা যারা এ কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই। পাশাপাশি সেতুটিকে সরকারিভাবে শহীদ আয়াতুল্লাহর নামে নামকরণ করে প্রবেশমুখে স্থায়ী ও বড় আকারের নামফলক স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি।
শহীদ আয়াতুল্লাহর বড় ভাই মো. সোহাগ মিয়া বলেন, আজ ফজরের নামাজ শেষে হাঁটতে বের হয়ে দেখি, স্থানীয় ছাত্র—জনতার উদ্যোগে শুমেশ্বরী সেতুর ওপর টানানো আমার ভাইয়ের নামের সাইনবোর্ডটি কালো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়েছে। আমরা মনে করছি, এটি জুলাইবিরোধী শক্তির কাজ। যে বা যারা এ কাজ করেছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি সেতুটিকে সরকারিভাবে ‘শহীদ আয়াতুল্লাহ সেতু’ নামকরণ করে স্থায়ী নামফলক স্থাপনের দাবি জানাই।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন (পিপিএম) বলেন, সেতুর নামফলক থেকে নাম মুছে দেওয়ার বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা তদন্ত করে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে বা তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করা গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন