প্রকাশিত: ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫৭
দোয়ারায় মোবাইল চুরির ঘটনার জের
সুনামগঞ্জের দোয়ারা বাজারে ঘরের সিঁধ কেটে মোবাইল চুরি’র ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে ৪৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ছাতকে চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর আহত দুইজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে রেফার করা হয়েছে। ঘটনার পর পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করায় পরিস্থিতি শান্ত হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার নৈনগাঁও গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গত ১ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে পশ্চিম নৈনগাঁওয়ের রফিক মিয়ার ভাতিজা গ্রুপের আব্দুল জব্বারের বসতঘরে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে সেলিম মিয়ার ভাতিজা সালমিন মিয়াকে তারা পুলিশে সপোর্দ করে। ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সালমিনকে মাদক দ্রব্য সেবনের দায়ে কারাদন্ড দিয়ে জেলে পাঠান।
দুইদিন পরে চুরি যাওয়া মোবাইলগুলো খোঁজে পান আব্দুল জব্বার। মোবাইল চুরির ঘটনা নৈনগাঁও গ্রামের দুইগোষ্ঠীর মধ্যে বিগত কয়েকদিন যাবত টানটান উত্তেজনা বিরাজ করে। শনিবার দুপুরে ছাতক —দোয়ারাবাজার সড়কে সেলিম মিয়ার স্বজনরা রফিক মিয়ার স্বজন ইজিবাইক চালক শামীম আহমদকে মোবাইল খেঁাজে পাওয়া নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার একপর্যায়ে চরম বাকবিতন্ডা হয়।
এসময় ছালনিনের স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করায় শামীম মিয়া তার প্রতিবাদ করে। পরে সেলিম মিয়ার সমর্থক ও রফিক মিয়ার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাতক—দোয়ারাবাজার সড়কের অবস্থান করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে শামীম মিয়া, মঈন উদ্দিন,আঙ্গুর মিয়া, সোহেল মিয়া, ও ফুলতেরা বেগম, হেলাল মিয়া, আল—আমিন, বাসির, পাভেল, ফাহিম, দেলোয়ার হোসেন, আলী হোসেন, সেলিম আহমদ, মোস্তাক হোসেন, তোফায়েল আহমদ, জুবায়েল আহমদ, আনোয়ার হোসেন, ওবায়দুর রহমান এবং সেলিম মিয়ার পক্ষের ফয়েজ আহমদ, জহুর আলী, লিয়াকত আলি, তমির উদ্দিন, সোহেল মিয়া, আল—আমিন, আক্তার হোসেন, এলম মিয়া, সালিম উদ্দিন, কলিম উদ্দিন, কামাল হোসেন, নিজাম উদ্দিন, কামরুল ইসলাম, রুহুল আমিন, রহিমা বেগম, সুজিনা বেগম, আছাবুন্নেসা, আনিছা বেগম, মছব্বির আহমদ, আব্দুল কাইয়ুম, জামিল আহমদ, তাজির উদ্দিন, জাবেদ, রুবেল, স্বরূপা বেগম, কালা মিয়া, মাহদী, খসরু মিয়া, সোহাগ, আলাইসহ উভয় পক্ষের ৪৫ জন আহত হন। পরে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই গ্রুপের সংঘর্ষের কারণে ছাতক—দোয়ারাবাজার সড়কে যানবাহন চলাচল ঘন্টাব্যাপী বন্ধ ছিল।
দোয়ারা থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, মোবাইল চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও ইটপাটকেল নিয়ে সড়ক দখল করে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে উভয়পক্ষের ৪৫ জন আহত হন। পরিস্থিতি পুলিশ শান্ত করে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষ থানায় কোন মামলা দায়ের করেনি।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন