প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৪
দোয়ারাবাজারে গোয়ালঘর থেকে দুইটি গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে উত্তেজিত জনতা। এ সময় আটককৃতদের চোখে চুন দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। পরে পুলিশ উদ্ধার করে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বক্তারপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের (৪২) গোয়ালঘর থেকে দুইটি গরু চুরি হয়। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি স্বজন ও স্থানীয়দের সাথে নিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
(1).jpg)
ভোর সাড়ে ৪টার দিকে পার্শ্ববর্তী বাংলাবাজার ইউনিয়নের পালইছড়া জামে মসজিদের সামনে সোনাই মিয়া (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে দুইটি গরুসহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয়রা তাকে আটক করেন। সে ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোড়াপানি গ্রামের সেরগুল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোনাই মিয়া স্বীকার করেন যে বাংলাবাজার ইউনিয়নের বরইউড়ি গ্রামের হাছান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৪০) এবং পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) তার সাথে চুরিতে জড়িত ছিলো। পরবর্তীতে স্থানীয়রা অভিযান চালিয়ে বাকি দুইজনকেও আটক করে মসজিদের সামনে নিয়ে আসেন।
এ সময় উত্তেজিত জনতা তিনজনকে মারধর করেন এবং তাদের চোখে চুন দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। স্থানীয় শালীশ বৈঠকে বিএনপির নেতা মোরশেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, জাকির হোসেন, রতন মিয়াসহ এলাকার সকলের সীদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনজনের চোখে চুন দেয়া হয়। এছাড়াও এসময় কুক্কাত চোর আবু বাক্করের একটি পা ভেঙে দেয়া হয়। খবর পেয়ে গরুর মালিক আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিজ গরু দুইটি শনাক্ত করেন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯—এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। প্রথমে তাদের দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল থেকে তাদেরকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, গরুসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে খবর পেয়ে তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেলে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে আটককৃতরা। তিনি বলেন, গরুর মালিক বাদি হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আইন অনুযায়ী পরবতীর্তে আটককৃত তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন