১০০ মিটার জায়গার জন্য অসম্পূর্ণ উচ্ছেদ অভিযান

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:২১

পৌর শহরকে যানজট মুক্ত ও নিরাপদে রাখতে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। পৌর প্রশাসক অসিম চন্দ্র বনিকের নেতৃত্বে দুই দিনব্যাপী দিনে—রাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সড়কের নিরাপত্তায় দুই শিফটে ২৬ জন স্থায়ী কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে পৌরসভার পক্ষ থেকে। অভিযানের পরপর অনেকটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন দেখা যায় সুনামগঞ্জ শহরের পুরাতন বাস স্টেশন থেকে আলফাত উদ্দিন স্কয়ার (ট্রাফিক পয়েন্ট) হয়ে পুরাতন কোট পর্যন্ত।

 

যানজট ছাড়াই নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন শহরবাসী। উচ্ছেদের সুফল জানান খোদ পৌর সরকারি প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েছ। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত অনুষ্ঠান খবর নামায় যোগ দিতে স্টুডিওতে এসে তিনি বলেন, শহরের ব্যস্ততম সময়ে পৌরসভা থেকে পুরাতন বাসস্ট্যান্ড আসলাম। কোথাও এক সেকেন্ডের জন্য দাঁড়াতে হয়নি। পুরো রাস্তা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছিল। 

 

 

 

 

 


তবে পৌরসভার এমন বড় উদ্যোগ অসম্পূর্ণ থেকে গেছে আলফাত উদ্দিন স্কয়ার থেকে মধ্যবাজার সড়কের মাত্র ১০০ মিটার জায়গা উচ্ছেদ না হওয়ায়। দেশবন্ধু মিষ্টান্ন ভান্ডারের সামনে থেকে পূর্ব বাজার জামে মসজিদ পর্যন্ত সড়কের দুইপাশ দখলে নিয়ে এখনো বসছে ফলসহ নিত্যপণ্যের দোকান। দুইপাশে থাকা ফুটপাত পেরিয়ে সড়কের অর্ধেক অংশ জুড়ে দখলে নিয়েছে তারা। এতে আলফাত স্কয়ার থেকে দাঁড়িয়ে একদিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সড়ক অন্যদিকে সেই পুরনো ঘিঞ্জি সড়ক দেখা যায়। যা নিয়ে উচ্ছের আলোচনার পাশাপাশি কিছুটা সমালোচনা করছেন নাগরিকরা। মনের দু:খ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছেন উচ্ছেদকৃত ফুটপাত ব্যবসায়ীরাও।

 


পথচারী মাজহারুল ইসলাম বলেন, চত্ত্বরে দাঁড়িয়ে দুইদিকে নজর দিলে দেখা যায় দুই দৃশ্য। দক্ষিণের সড়ক কত সুন্দর, পরিচ্ছন্ন এবং যানজটমুক্ত। অন্যদিকে উত্তরে সেই পুরনো দশা। যেন শহরের একদিকে অন্ধকার অন্যদিকে আলো। এই সামান্য জায়গা উচ্ছেদ করলে একদম সুন্দর হয়ে যেত। 

 


উচ্ছেদ হওয়া একাধিক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা অবৈধভাবে ছিলাম। প্রশাসনের উচ্ছেদের পর সরে গেছি। আমরা সরে গিয়েছি কিন্তু আমার পাশের সড়কে ব্যবসায়ী এখনো বহাল। তারা ব্যবসা করছে আর আমরা উচ্ছেদ হয়েছি। এটা ন্যায় বিচার হয়নি। উচ্ছেদ হলে সড়কে থাকা সবাই হবে। কেউ হবে আর কেউ হবে না, এটা দেখলে কষ্ট লাগে। 
স্থানীয় সরকার উপ পরিচালক ও পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিক বলেন, আমরা চত্বরটিকে (আলফাত উদ্দিন স্কয়ার) পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে চাই। এখানে কাউকে বসতে দেবো না। চত্বরের আশপাশে যদি কেউ বসে থাকে আমরা উচ্ছে করবো। 

 


পাশাপাশি তিনি আরেকটি সুখবর দিতে চান বলে জানান, চাঁদনীঘাট এলাকার সুরমা নদীর পাড়ে কয়েক বছরের যে টনের টন ময়লা আবর্জনা স্তুপ করা। আমরা এগুলো সরানোর জন্য বড় আকারে উদ্যোগ নিয়েছি। নদীর পাড়ে কোন ময়লা থাকবে না। ময়লাগুলো সরিয়ে এখানে বড় ডাস্টবিন দেয়া হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার