প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:১১
জাতীয় পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া বর্তমান সংসদ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সংসদে সংসদীয় চর্চা হচ্ছে না, মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও জনরোষ বাড়ছে। দেশকে সঠিক জায়গায় নিতে হলে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টির কোনো বিকল্প নেই।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির হাছনরাজা মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা শহরের প্রধান প্রধান সড়কে র্যালি করে শিল্পকলা একাডেমিতে প্রবেশ করেন।
.jpg)
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আমরা সংকটময় মুহূর্তে দেশের গণতন্ত্রের স্বার্থে নির্বাচনে গিয়েছিলাম। কিন্তু একটি ‘মেটিকুলাস ডিজাইনের’ মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি রংপুরের মতো জায়গাতেও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় পার্টির অনেক প্রার্থী ভালো ভোট পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের ভোট কমিয়ে দেখানো হয়েছে, যাতে জাতীয় পার্টি এক শতাংশ ভোটও না পায়। জাতীয় পার্টিকে শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়েছে। জাতীয় পার্টির কখনোই এত কম ভোট পাওয়ার কথা নয় বলেও দাবি করেন তিনি।
জাপা মহাসচিব বলেন, এরপরও জাতীয় পার্টি নতুন সরকারকে স্বাগত জানিয়েছিল। কারণ তারা চেয়েছিল দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসুক, রাজনৈতিক দলের সহাবস্থান প্রতিষ্ঠিত হোক এবং দেশে শান্তি ফিরে আসুক। কিন্তু ছয় মাস পর দেখা যাচ্ছে, দেশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি
।
তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, চাকরি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন সংকট রয়েছে। এসব সংকটের সমাধান না হলে দেশ ধীরে ধীরে আরও বড় সমস্যার দিকে যাবে। বর্তমান সরকার সংকটময় সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারকে সংকট মোকাবিলায় আরও পরিণত ভূমিকা রাখতে হবে।
(1).jpg)
ড. ইউনূসের সরকারের সমালোচনা করে শামীম পাটোয়ারী বলেন, শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. ইউনূসের সময়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ‘মব কালচার’ হয়েছে। তিনি সংকটময় মুহূর্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে জাতিকে বিভাজিত করেছেন এবং জাতীয় ঐক্য নষ্ট করেছেন। তার সময়ে দেশের অর্থনীতিও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এরশাদের শাসনামলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ভাতা, ঈদ বোনাসসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এরশাদের সময়ে। মুজিবনগর সরকারের স্মৃতিবিজড়িত স্থানেও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশের সংসদ ভবনের কাজ সম্পন্ন করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজও এরশাদের সময়ে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দেশে জাতীয় নির্বাচন না হওয়ার পর এরশাদ নির্বাচন আয়োজন করেছিলেন। ছাত্রদের রাজনীতি থেকে দূরে রেখে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ছাত্ররাজনীতির ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে।
এরশাদের আমলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে জাপা মহাসচিব বলেন, তখন দেশে রোহিঙ্গা, সীমান্ত ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন সমস্যা থাকলেও সেগুলো দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করা হয়েছিল। পার্বত্য সমস্যারও সমাধান করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এরশাদ ছিলেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শাসক ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সংস্কারক। জাতীয় পার্টি সেই এরশাদের দল। তাই দেশকে বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে এরশাদের আদর্শ, চেতনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মডেল অনুসরণ করা প্রয়োজন।
বর্তমান সংসদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে ছাড়া সংসদ অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। সংসদে যথাযথ সংসদীয় ভাষা ও চর্চা হচ্ছে না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ভবিষ্যতে গণআন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রসঙ্গ তুলে শামীম পাটোয়ারী বলেন, রংপুরে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চারজনকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় তারা গভীর নিন্দা জানাচ্ছেন। সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের দাবি জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। মাদক ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ বাড়ছে। এরশাদের সময়ে আইন করে স্বল্প সময়ের মধ্যে সন্ত্রাস দমন করা হয়েছিল দাবি করে তিনি বর্তমান সরকারকে এরশাদের মডেল অনুসরণের আহ্বান জানান।
শামীম পাটোয়ারী বলেন, আজ জাতি নানা সংকটে রয়েছে। দেশকে এই অন্ধকার থেকে উত্তরণে এরশাদের চেতনা, মতবাদ, আদর্শ ও রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে এরশাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক মনির উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাজমুল হুদা হিমেলের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য রেজাউল ইসলাম, আলমগীর শিকদার, আরিফুর রহমান খানসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা।
সভায় সুনামগঞ্জ জেলার ১২টি উপজেলার জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন