দ্রুত সমাধান না হলে বাড়তি সুদের বোঝা তৈরি হবে

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:০৭

বিশ্বম্ভরপুরে সার্ভার জটিলতায় প্রায় দুই মাস ধরে ৪৪টি মৌজার অনেক ভূমি মালিক ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। অনলাইনে খাজনা পরিশোধের প্রক্রিয়ায় জটিলতা থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। একই সঙ্গে নামজারি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় জমি কেনাবেচা ও রেজিস্ট্রিসহ বিভিন্ন জরুরি কাজেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।

 


সার্ভার জটিলতার কারণে শুধু ভূমি মালিকরাই নয়, সরকারও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন সমস্যার সমাধান না হলে অর্থবছর শেষে ভূমি মালিকদের বাড়তি সুদ গুনতে হতে পারে। এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর—এর নিয়মিত আয়োজন ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন অবসরপ্রাপ্ত ভূমি ইউনিয়ন সহকারী কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি, সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি কাজী শামসুল হুদা সোয়েল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রায় দুই মাস ধরে বিশ্বম্ভরপুরের ৪৪টি মৌজার ভূমিমালিকরা খাজনা দিতে পারছেন না। সমস্যাটির মূল কারণ কী?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: আগে ম্যানুয়ালি সরকারি নির্ধারিত রসিদের মাধ্যমে খাজনা আদায় করা হতো। পরে বিভিন্ন রেজিস্টারে এন্ট্রি করে চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়া হতো। এখন পুরো কার্যক্রম অনলাইন নির্ভর। বিশ্বম্ভরপুরের ৪৪টি মৌজার ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যবস্থায় জটিলতা তৈরি হওয়ায় খাজনা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এ সমস্যায় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সরাসরি কোনো হাত নেই বলে তিনি জানান।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সার্ভার জটিলতার কারণে খাজনা দিতে না পারলে জমি বিক্রি ও রেজিস্ট্রিসহ জরুরি কাজে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: খাজনা পরিশোধ না করলে জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে সমস্যা তৈরি হতে পারে। মানুষ অনেক সময় জরুরি প্রয়োজনেই জমি বিক্রি করেন। কারও মেয়ের বিয়ে, কাউকে বিদেশ পাঠানো কিংবা অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার মতো প্রয়োজনেও জমি বিক্রি করতে হয়। সময়মতো ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে না পারলে এসব প্রয়োজনেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সার্ভার জটিলতা চলমান থাকলেও অন্য কোনো উপায়ে খাজনা পরিশোধের সুযোগ আছে কি?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের কার্যক্রম অনলাইন ভিত্তিক। একজন ভূমি মালিক অনলাইনে নিবন্ধন করে আবেদন করতে পারেন। অনুমোদনের পর নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিকাশ, নগদ বা ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করা যায়। অনলাইন পদ্ধতি জানা থাকলে নিজের মোবাইল ফোন থেকেই কাজটি করা সম্ভব। না জানলে সংশ্লিষ্ট সেবাকেন্দ্র বা দোকান থেকে সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দেন তিনি।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দীর্ঘদিন খাজনা পরিশোধ করতে না পারলে ভূমিমালিকদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়বে কি?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: তার বক্তব্য অনুযায়ী, নির্ধারিত অর্থবছরের মধ্যে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী অর্থবছরে বকেয়া করের সঙ্গে সুদ দিতে হয়। তিনি জানান, বর্তমান অর্থবছর ২০২৬—২৭। সার্ভার জটিলতার কারণে যদি অর্থবছর শেষ হয়ে যায় এবং সমস্যার সমাধান না হয়, তাহলে ভূমিমালিকদের বাড়তি সুদ দিতে হতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সাপোর্ট টিম বা প্রোগ্রামারদের মাধ্যমে সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব কি?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: তিনি জানান, সমস্যাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। সাপোর্ট টিম ও প্রোগ্রামারদের বিষয়টি জানানো হলেও দ্রুত সমাধান হচ্ছে না। তার মতে, সংশ্লিষ্ট টিম চাইলে এ ধরনের কারিগরি সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সাধারণ মানুষ সার্ভার জটিলতা ও ভূমিসেবা নিয়ে ভোগান্তির শিকার হলে কী করতে পারেন?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি অবহিত করা যেতে পারে। সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমেও বিষয়টি তুলে ধরা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্পের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত সমস্যার সমাধান করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভূমি উন্নয়ন কর দিতে গিয়ে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ কী?
কাজী শামসুল হুদা সোয়েল: অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের নিয়ম জানা থাকলে নিজেই আবেদন ও পেমেন্ট করা সম্ভব। অন্যের সহযোগিতা নিতে গিয়ে অনেক সময় মানুষ প্রতারিত বা হয়রানির শিকার হতে পারেন। তিনি বলেন, ভূমি বিভাগ বা অফিসের সবাইকে ফেরেশতা বলা যাবে না; তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে জনগণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও হয়রানির শিকার হন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার