৫ আগস্টের পর ধোপাজানে লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৩

গুরুত্বপূর্ণ ধোপাজান বালু—পাথর মহাল দীর্ঘদিন ধরে ইজারাবিহীন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সেখানে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ বালু লুটের অভিযোগ উঠে। সম্প্রতি মহালটিতে পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের পাশাপাশি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে ধোপাজান মহালের উপর নির্ভরশীল শ্রমজীবী মানুষের দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় সনাতনী পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হোক। এতে একদিকে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরবে, অন্যদিকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে পরিবেশ রক্ষার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 


এসব বিষয় নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের নিয়মিত আয়োজন ‘খবরনামা’য় আলোচনা করেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম ছদরুল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন স্টাফ রিপোর্টার জাকারিয়া আহমদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ইজারাবিহীন ধোপাজান বালু—পাথর মহালে পুলিশের চৌকি ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এতে কি অবৈধ বালু উত্তোলন কার্যকরভাবে বন্ধ হবে বলে মনে করেন?
সাইফুল আলম ছদরুল: সিসি ক্যামেরা বসানোর বিষয়টি অনেকটা ‘রোগী মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আসার’ মতো। একটা সময় এই বালু—পাথর মহালে পুলিশের প্রয়োজন ছিল না, নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজন ছিল না। বালুও আহরিত হতো, পাথরও আহরিত হতো। সেই পরিবেশ ধ্বংস করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা কতটা কার্যকর হবে, সেটি মূলত রাষ্ট্রের নীতিগত সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে। রাষ্ট্র যদি লুটপাটকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়, তাহলে সিসি ক্যামেরা, ড্রোন কিংবা স্যাটেলাইট ক্যামেরা বসিয়েও লুটপাট বন্ধ করা সম্ভব হবে না। লুটপাট বন্ধ করতে হলে রাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑপরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষা করা হবে এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। তাহলেই এ ধরনের উদ্যোগ কার্যকর হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ৫ আগস্টের পর ধোপাজান থেকে কয়েক দফায় বিপুল পরিমাণ বালু লুটের অভিযোগ কতটা সত্য? এর দায় কি তৎকালীন প্রশাসন ও পুলিশের নীরবতার উপর বর্তায়?
সাইফুল আলম ছদরুল: সত্য—মিথ্যার বিষয়টি তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত। নাগরিক হিসেবে আমরা সরাসরি এর সত্যতা যাচাই করতে পারি না। তবে ধোপাজানে লুটপাটের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে কখনো বেশি, কখনো কম লুটপাট হয়েছে বলে আমরা দেখেছি। ২০১৮ সালে ইজারা বন্ধ করার পরও লুটপাট হয়েছে। এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যে লুটপাট হয়েছে, সেটিরও সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন। তৎকালীন সময়ে আমরা নাগরিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা প্রতিবাদ—প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জে প্রথমবারের মতো শিল্পকলা একাডেমিতে গণশুনানিও হয়েছিল। সেখানে লুটপাটের সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্তের বাস্তব অগ্রগতি দেখা যায়নি।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ধোপাজান ইজারা না দিয়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখার যৌক্তিকতা কী? এতে সরকার কী ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে?
সাইফুল আলম ছদরুল: ধোপাজানসহ সিলেট অঞ্চলের আরও কয়েকটি বালু—পাথর মহাল বন্ধ রয়েছে। আমরা কখনোই এভাবে স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখার পক্ষে ছিলাম না। লুটপাট বন্ধ করতে গিয়ে মহাল বন্ধ করে দেওয়া অনেকটা মাথাব্যথার ওষুধ দিতে গিয়ে মাথাটাই কেটে ফেলার মতো।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: হাজারো শ্রমিকের দাবি, যন্ত্রের বদলে সনাতন পদ্ধতিতে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বালু উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হোক। এ দাবি কতটা বাস্তবসম্মত?
সাইফুল আলম ছদরুল: স্থায়ীভাবে বন্ধ রাখাটা অযৌক্তিক। সুনামগঞ্জ মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। পাহাড়ের শিলা দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি, রোদ ও বর্ষার পানির স্রোতে ক্ষয় হয়ে প্রাকৃতিকভাবে সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় নেমে আসে। এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। এই প্রাকৃতিক ধারাকে পুরোপুরি অস্বীকার করা সম্ভব নয়। কোথাও যদি প্রাকৃতিকভাবে বালু—পাথর জমার ধারায় বাধা সৃষ্টি হয়, ভবিষ্যতে কোনো ধরনের বিপর্যয়ও দেখা দিতে পারে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে সনাতনী পদ্ধতিতে বালু উত্তোলনের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষা এবং ধোপাজানের পরিবেশÑদুটিই রক্ষা করতে আপনার প্রস্তাব কী?
সাইফুল আলম ছদরুল: পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করতে হবে। শুধু মহাল বন্ধ করে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। একদিকে পরিবেশ রক্ষা করতে হবে, অন্যদিকে শ্রমজীবী মানুষের বেঁচে থাকার পথও তৈরি করতে হবে। আমাদের দেখতে হবে, ধোপাজানের বালু—পাথর কীভাবে পরিবেশসম্মত ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে আহরণ করা যায়। যারা অবৈধভাবে লুটপাট করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে এবং শ্রমজীবী মানুষের জন্য বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্রকে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑলুটপাটকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হবে, নাকি দেশের স্বার্থে, পরিবেশের স্বার্থে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করা হবে। সিদ্ধান্তটি নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকেই আসতে হবে। এতে একদিকে ধোপাজানের পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে হাজারো শ্রমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার