প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৬
শান্তিগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের নবীনগর গ্রামের প্রায় ৮শ’ ফুট দীর্ঘ একটি সড়ক দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসীর দুর্ভোগের কারণ হয়ে আছে। সড়কটি মাটির হওয়ায় বর্ষা এলেই কাদা—পানিতে একাকার হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদায় পা ডুবে যায়। ফলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে গুরুত্বপূর্ণ এই গ্রামীণ সড়কটি।
স্থানীয়রা জানান, ইউনিয়নের সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেঁষা আবদুল হান্নান পাকিস্তানীর বাড়ির সামনে থেকে সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য স্বপ্না বেগমের বাড়ি পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮শ’ ফুট। এই সড়কের আশপাশে পাঁচ শতাধিক মানুষের বসবাস। তাঁদের দৈনন্দিন চলাচলের পাশাপাশি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করে। ব্যবসায়ীসহ গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি—পেশার মানুষও যাতায়াতের জন্য এই সড়কের ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় সড়কটির চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। টানা বৃষ্টি কিংবা সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে সৃষ্টি হয় কাদার স্তর। অনেক স্থানে পায়ে হাঁটাও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্কদের এ সময় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
.jpg)
বুধবার সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে সুরুজ আলীর স’মিল পর্যন্ত কিছুটা পায়ে হেটে চলাচল করা গেলেও বাকী অংশ প্রায় চলাচল অনুপযোগী। দেখলে মনে হবে এখানে যে গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য একটি রাস্তা আছে তা বুঝার কোনো উপায় নেই। রাস্তার মাঝে কোথায় কচুরিপানায় ভরে আছে, কোথাও কাদায় ভরপুর আর কোথাও পানি। রাস্তার মাঝখানে কোথাও কোথাও বড় বড় বন তৈরি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে আছেন নবীনগরবাসী।
এমন দুর্ভোগ এড়াতে সড়কের কোনো কোনো অংশে অন্যের ভিটার সাথে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন স্থানীয়রা। তবে এসব সাঁকোও নিরাপদ নয়। ভেজা ও সরু বাঁশের ওপর দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে হয়। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটি মাটির অবস্থায় পড়ে থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে বর্ষা মৌসুম এলেই একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। তাঁদের ভাষ্য, একটি পাকা সড়ক হলে শুধু মানুষের চলাচলই সহজ হবে না, গ্রামের শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি—পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
নবীনগর গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য স্বপ্না বেগম বলেন, এই রাস্তা দিয়ে গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। বর্ষা এলেই কাদা—পানিতে রাস্তা ডুবে যায়। অনেক সময় চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো বানাতে হয়। শিক্ষার্থী ও নারী—শিশুদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। আমরা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছি।”
স্থানীয় বাসিন্দা বুরহান উদ্দিন, জমিলা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে কোনোভাবে চলাচল করা গেলেও বর্ষায় রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ হয়। কাদায় পা আটকে যায়, কাপড়—জুতা নষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে কেউ অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়ে। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা দরকার।
তারা বলেন, বাচ্চাদের স্কুল—মাদ্রাসায় পাঠাতে বর্ষাকালে ভয় হয়। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় পানি ও কাদা থাকে। কোথাও সাঁকো দিয়ে যেতে হয়। একটু অসতর্ক হলেই পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই, আমাদের এই কষ্টের স্থায়ী সমাধান হোক। এটি শুধু একটি রাস্তা নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পাঁচ শতাধিক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করেন। বর্ষায় বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করতে হয়—এটা কোনো গ্রামের মানুষের জন্য স্বাভাবিক পরিস্থিতি হতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে রাস্তাটি পাকাকরণ করা।
তারা বলেন, আমাদের এমপি সাহেবের কাছে বিনীত অনুরোধ, তিনি যেনো গ্রামের সড়কটি পাকাকরণ করে দেন।
সুনামগঞ্জ—৩ (শান্তিগঞ্জ—জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, রাস্তার বিষয়টি আমি দেখব। গ্রামের পক্ষ থেকে একটি লিখিত আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন