পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বিক্ষোভ ও ওসির বিবৃতি

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫১

ছাতকে আ.লীগ নেতা স্বপন মিয়া গ্রেপ্তার

ছাতকে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন মিয়াকে গণপিটুনি, অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিক্ষোভ এবং পরবর্তীতে ঢাকায় তার গ্রেপ্তারের ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ তাকে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টে গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে সোপর্দ করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের জবাবে ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান সংবাদমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ বিবৃতি দিয়েছেন।

 


গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ছাতক পৌর শহরের তাহির (তাহের) প্লাজার সামনে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর স্থানীয় উত্তেজিত জনতা স্বপন মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।


স্বপন মিয়াকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার অবস্থান নিয়ে রহস্য তৈরি হয়। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার অভিযোগ, পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে সিলেটে নেওয়া হলেও স্বপন মিয়াকে প্রকৃতপক্ষে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পুলিশ দেয়নি।

 


এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে চোরাচালান, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হয়রানির অভিযোগ তুলে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ছাতক পৌর শহরে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। সমাবেশে বক্তব্য দেন ছাতক পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (স্বাক্ষর ক্ষমতাপ্রাপ্ত) ও সাবেক কাউন্সিলর জসিম উদ্দিন সুমেন, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন সালমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বাকি বিল্লাহ এবং উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল আলীম। এ সময় ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য তানিমুল ইসলাম তানিম, সাবেক পৌর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুনেম মামনুন, পৌর যুবদলের সদস্য নোমান ইমদাদ কানন, সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ছাতক উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আব্দুল বাকী মুহিত, বিএনপি নেতা জাহির উদ্দিন দিনান, গোলাম দস্তগীর জীবন, ঝুমন আহমেদ, সোনা আলী, সিফাত, তানভীর, ঈদরাকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। 

 


বিক্ষোভকারীরা বলেন, পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর একজন ব্যক্তির অবস্থান নিয়ে এমন ধোঁয়াশা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে স্বপন মিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করা এবং ঘটনার সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহার না করলে পরবর্তী সময়ে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন বক্তারা।

 


এদিকে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্যের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টায় ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান এক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে তিনি ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে তাহির প্লাজার সামনে উত্তেজিত জনতা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার ভেতর স্বপন মিয়াকে গণপিটুনি দেয়। বিষয়টি রাতের ডিউটিতে থাকা এসআই সালাউদ্দিন মোল্লার নজরে এলে রাত ১১টা ৩৪ মিনিটে তিনি ওসিকে অবহিত করেন। পরে ওসির নির্দেশে পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখে। গুরুতর আহত স্বপন মিয়াকে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা উদ্ধার করে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে স্বজনরা তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে সিলেটে নিয়ে যান।

 

 


তিনি বলেন, গত ১৩ সেপ্টেম্বর ঘটনার সময় স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে ছাতক থানায় তাৎক্ষণিক কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাওয়া যায়নি। এ কারণে আইনানুযায়ী আহত অবস্থায় তাকে পুলিশ হেফাজতে না রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনতা ও সামাজিক মাধ্যমে তার আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয় সামনে আসে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২২ জুলাইয়ের একটি স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট মামলার (মামলা নং—২৮) সাথে তার সংশ্লিষ্টতার আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন ছিল। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার ও ছাতক সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারকে জানানো হয় এবং তাদের তত্ত্বাবধানে আভিযানিক দল গঠন করা হয়। পুলিশের আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাত সাড়ে ১২টায় ঢাকার ঢাকার বনানী থানা এলাকা থেকে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওসি মিজানুর রহমান বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের হীন ও ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরতেই তিনি এই বিবৃতি দিয়েছেন বলে জানান।


এদিকে গ্রেপ্তারকৃত স্বপন মিয়াকে ছাতক থানার ২২ জুলাই ২০২৫—এর দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট—১৯৭৪—এর ১৫(৩)/২৫—ডি ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার বিকালে ছাতক জোনের আমলি আদালতে সোপর্দ করা হয়। স্বপন মিয়া দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শারপিননগর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। বর্তমানে তিনি ছাতক পৌর শহরের লেবারপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। 

 


অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) সুজন সরকার মঙ্গলবার বিকালে জানান, ছাতক থানায় সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল করার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে স্বপন মিয়াকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব জানান, মঙ্গলবার বিকালে ছাতক জোনের আমলি আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক নুরুল হক স্বপন মিয়াকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার