মানুষের মন জয় করার সক্ষমতা রয়েছে তাঁর

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৮

ছাত্ররাজনীতি থেকে রাষ্ট্রপতি

ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর শিক্ষকতা, দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা এবং নানা আন্দোলন—সংগ্রামের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদে আসীন হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর রাজনৈতিক জীবনে ছাত্রজীবন ও শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার প্রভাব, বক্তব্য দেওয়ার ধরন, বিভিন্ন সংকট— আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা এবং বর্তমান প্রজন্মের জন্য তাঁর পথচলা থেকে কী শেখার আছে— তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ‘খবরনামা’য়। কথা বলেছেন সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পরিমল কান্তি দে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহকারী সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাত্রজীবন ও সে সময়ের ছাত্ররাজনীতি তার চিন্তা ও ব্যক্তিত্ব গঠনে কতটা ভূমিকা রেখেছিল বলে আপনি মনে করেন?
পরিমল কান্তি দে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আমি খুব শ্রদ্ধা করি। ছাত্রজীবনে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৬৯—এর গণঅভ্যুত্থানের আগে ছাত্রদের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা এবং দেশকে মুক্ত করার যে চিন্তা তৈরি হয়েছিল, ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান তারই একটি ভিত্তি তৈরি করেছিল। আমার ভালো লাগে যে ফখরুল ইসলাম আলমগীর ওই সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। আমিও কলেজের শিক্ষক ছিলাম। দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ঢাকা কলেজে তিনি শিক্ষকতা করেছেন এবং সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। এখনো তিনি অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলেন। কোনো ধরনের উত্তেজনা ছাড়াই সুন্দরভাবে একই টোনে কথা বলতে পারেন। অর্থাৎ মানুষের মন জয় করার একটি সক্ষমতা তার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষকের যেসব গুণ থাকা দরকার, সেগুলোও তার মধ্যে ছিল বলে আমি মনে করি। শিক্ষক বলতে আমরা বুঝি, যার মধ্যে শিষ্টাচার, ক্ষমাশীল দৃষ্টি, মহানুভবতা ও কর্তব্যপরায়ণতা থাকবে। তিনি শিক্ষক ও ছাত্র—ছাত্রীদের কল্যাণে কাজ করবেন। ফখরুল ইসলাম আলমগীরও ছাত্রদের মধ্যে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে সেই অভিজ্ঞতার আলোকে বৃহত্তর পরিসরে কাজ করার জন্য রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ছাত্ররাজনীতি যখন তিনি করেছেন, সেই সময় তিনি কীভাবে কাজ করতেন?
পরিমল কান্তি দে: আমিও ১৯৬৯—এর গণআন্দোলনে সিলেটের রাজপথে ছিলাম। তখন ছাত্রদের মধ্যে একটি ঐক্য ছিল। ১১ দফা আন্দোলনে ছাত্ররা যেভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিল, সেটি ছিল উল্লেখ করার মতো। সে সময় ছাত্রদের মধ্যে দেশের প্রতি ভালোবাসা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ছিল।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে একজন শিক্ষক হিসেবে আপনি কীভাবে দেখেন? তার বিশেষত্ব কী ছিল বলে মনে করেন?
পরিমল কান্তি দে: একজন শিক্ষক তখনই সফল হন, যখন তিনি ছাত্রদের মন জয় করতে পারেন এবং একটি বিষয় ভালোভাবে বোঝাতে পারেন। ভালো ক্লাস নিতে পারলে ছাত্ররা মনে করে, এই শিক্ষক আমার ভালো শিক্ষক। এই দিক থেকে তিনি পরীক্ষিত বলে আমি মনে করি। সরাসরি তার শিক্ষাদানের বিষয়টি আমি দেখিনি। তবে তিনি যখন মাঠে—ময়দানে বক্তৃতা করেন, তখন তার মধ্যে একজন শিক্ষকের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। তিনি খুব সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলেন। কোনো ধরনের উত্তেজনা দেখান না। যেহেতু তিনি সুন্দরভাবে বক্তৃতা দেন এবং কথাগুলো সহজ ভাষায় বলেন, তাই আমার মনে হয় তার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা এখানে ভূমিকা রেখেছে। তিনি যেভাবে ছাত্রদের নিয়ে কাজ করতেন, সেভাবেই সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তার মধ্যে তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে দেশের প্রতি তার ভালোবাসা ও দেশ নিয়ে চিন্তাভাবনা ছিল। রাজনীতিতে নানা দুর্যোগ ও দেশের বিভিন্ন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি দলকে সংগঠিত রাখার চেষ্টা করেছেন। সবকিছু মিলিয়ে আমি মনে করি, তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: একজন শিক্ষক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তার দীর্ঘ পথচলা থেকে বর্তমান প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য কী শেখার রয়েছে বলে আপনি মনে করেন?
পরিমল কান্তি দে: তার যে আদর্শ তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে নতুন প্রজন্ম ও অভিভাবক—সবারই শেখার আছে। তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা বলেছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের কথা বলছেন, যেটি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। আমি তাঁকে একজন অসাম্প্রদায়িক মানুষ হিসেবে দেখি। তাঁর কথাবার্তা ও আচরণে কোনো সময় সাম্প্রদায়িক শক্তি সুযোগ পেয়েছে বলে আমি মনে করি না।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার