প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২২
সু.খবর ছবি
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সিলেট—সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে দুইপক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় ২০ মিনিট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের দামোদরতপী গ্রামের আমীর আলী ও মতলিব মিয়ার পক্ষের লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের ৯ জন আহত হয়েছেন।
মতলিব মিয়ার পক্ষের আহতরা হলেন মতলিব মিয়া (৫৫), হোসাইন আহমদ (২০), আরিয়ান আহমদ (১৪) ও গয়াছ মিয়া (৫৫)। অপরদিকে আমীর আলীর পক্ষের আহতরা হলেন—আমীর আলী (৩৮), আল আমিন (২৬), রাহীম আহমদ (১৫), নূর আহমেদ (২৬) ও সামির আহমদ (৩২)। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (বিকাল ৩টা) আহত সবাই স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার বিকালে একই গোষ্ঠীর লোক আমীর আলী ও মতলিব মিয়ার মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এ ঘটনায় রাতে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি মধ্যস্থতা করে উভয় পক্ষকে সালিশ মানার আহবান জানান। উভয় পক্ষই সালিশ মানতে রাজি হন। তবে সালিশ বৈঠক কোন দিন হবে, তা জানাতে সময় চান তারা। পরদিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সালিশের তারিখ জানানোর কথা থাকলেও এর আগেই দুপুরে পুনরায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উভয় পক্ষের লোকজন।
পুনরায় সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ জানতে চাইলে এ নিয়েও উভয় পক্ষের কাছ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। মতলিব মিয়ার পক্ষে তাঁর ভাতিজা দুলাল মিয়া বলেন, জোরপূর্বক আমার চাচার জমিতে বাঁধ দিয়ে আমীর আলী পানি আটকে দিচ্ছিলেন। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মাতাল অবস্থায় সকালে আমার চাচা মতলিব মিয়াকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও শারীরিকভাবে হেনস্তা করেন। এ বিষয়টি স্থানীয় লোকজন বসে সালিশের মাধ্যমে শেষ করে দেবেন বললে আমরা সালিশ মানি। পরদিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে আমরারা কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই নিজেদের লোক নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। আমাদের পক্ষের চারজন লোক আহত হয়েছেন।
এসব অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আমীর আলী পক্ষের আল আমিন বলেন, গত দিনের ঘটনায় স্থানীয় সালিশ ব্যক্তিরা মধ্যস্থতা করে একটি বৈঠক আহ্বান করেছিলেন। আমরাও রাজি ছিলাম। জোহরের নামাজের পরেই আমরা পঞ্চায়েতকে বিষয়টি জানাতাম। কিন্তু তারা এর আগেই আমাকে ও আমাদের লোকজনকে দেখে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। একপর্যায়ে আমাদের লোকজনের উপর তারাই আগে হামলা করে। এরপর সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছেন। আমার কানে পাঁচটি সেলাই লেগেছে।
মধ্যস্থতাকারী বিএনপি নেতা জুয়েল রানা ও স্থানীয় যুবক ইজাদুর রহমান ইজাদ বলেন, নিজেদের মধ্যে ঘটনা। এটি এত বড় হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু কেন যেন কেউই ধৈর্যে্যর পরিচয় দেননি। আমাদেরকে উভয় পক্ষই আশ্বস্ত করেছিলেন যে তারা বিচার—সালিশ মানবেন। কোন দিন বৈঠক হবে, তা আজ জানানোর কথা থাকলেও এর আগেই উভয় পক্ষ মারামারিতে জড়িয়ে পড়লেন।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউল্লাহ বলেন, মারামারির বিষয়টি জানি। তবে কোনো পক্ষই এখনো কোনো অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত সড়কে মারামারি হয়নি, লোকজন সড়কে জড়ো হয়েছিল।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন