প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৩৫
ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতি বৃহস্পতিবার নিয়মবহিভূর্তভাবে দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। বছরের শুরু থেকেই এভাবেই চলছে বলে জানিয়েছে শিক্ষার্থীরা। রুটিন অনুযায়ী বিদ্যালয় চলার কথা থাকলেও সপ্তাহের নির্দিষ্ট এ দিনে টিফিনের পর আর ক্লাস হয় না হওয়ায় নির্ধারিত পাঠদান থেকে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছে। সপ্তাহে একদিন নির্ধারিত সময়ের আগেই ছুটি দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করা এবং নিয়মিত পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
গত বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় তালাবদ্ধ থাকার বিষয়টি নজরে আসে এ প্রতিবেদকের। পরে পথিমধ্যে ওই বিদ্যালয় থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বললে বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয়ের একটি বিশ^স্থ সূত্র জানিয়েছে, এ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের পরিবার ময়মনসিংহে বসবাস করেন। তাই বিকেল তিনটায় ওই শিক্ষকদের মোহনগঞ্জে ট্রেন ধরার জন্য সুবিধা দিতেই দীর্ঘদিন ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সাড়ে চারশত শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ১৬ জন। গত বৃহস্পতিবার এ বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষক ছুটিতে ছিলেন। ওইদিনও যথারীতি বিকেল ৪টায় বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার কথা থাকলেও দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয় এবং প্রধান শিক্ষকসহ উপস্থিত শিক্ষকেরাও বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। কার নির্দেশে প্রতি বৃহস্পতিবার টিফিনের সময় বিদ্যালয় ছুটি হচ্ছে— তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বছরের শুরু থেকেই এভাবে চলছে। বৃহস্পতিবার তাদের হাফ স্কুল। প্রতি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা এমনটি (বৃহস্পতিবার ১টায় ছুটি) বলার কথা নয়। অন্য কোনো বৃহস্পতিবার টিফিনের সময় ছুটি দেওয়া হয় না। এই (গত) বৃহস্পতিবার ৬জন শিক্ষক ছুটি ছিলেন এবং বৃষ্টির কারণে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকায় টিফিনের সময় ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়।’
ধর্মপাশা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জুলফিকার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমনটি যে না হয় প্রধান শিক্ষককে বলে দিবো।’
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন