বিদ্যালয়ের সামনে নেই স্পিডব্রেকার

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৬

এক পাশে সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়, অন্য পাশে রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাঝখান দিয়ে ব্যস্ত সড়কে ছুটে চলছে দ্রুতগতির যানবাহন। প্রতিদিন এই সড়ক পার হয় দুই বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী। সকাল, টিফিন ও ছুটির সময় শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের চাপ বাড়লেও বিদ্যালয় দুইটির সামনে নেই যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো স্পিডব্রেকার। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ পথচারীরা।

 


সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ডিএস রোডের সরকারি জুবিলীর সামনের অংশে সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীত পাশেই রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। দুই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পাশাপাশি টিফিন ও ছুটির সময় খাবার কিনতে রাস্তা পারাপারের কারণে সড়কটিতে পথচারীর চাপ বেড়ে যায়।

 


বিশেষ করে রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট শিক্ষার্থীদের নিয়ে উদ্বেগ বেশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের। অনেক শিশুই যানবাহনের গতি, দূরত্ব কিংবা সড়ক পারাপারের ঝুঁকি ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। অভিভাবক বা বড় কেউ সঙ্গে না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

 


রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত আহমেদ তাহসিন বলেন, বিদ্যালয় দুইটির সামনে বড় সড়ক হওয়ায় দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করে। স্পিডব্রেকার থাকলে যানবাহনের গতি কমবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়বে।

 


একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহমেদ হোসেন বলেন, ছোট শিক্ষার্থীরা অনেক সময় না বুঝেই দৌড়ে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সঙ্গে অভিভাবক বা বড় কোনো শিক্ষার্থী না থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 


সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আল আমিন রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে কোনো স্পিডব্রেকার নেই। টিফিনের সময় ছোট শিক্ষার্থীরা খাবার কিনতে গিয়ে অনেক সময় দৌড়াদৌড়ি করে রাস্তা পার হয়। স্পিডব্রেকার থাকলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

 


একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু বক্কর আইমন বলেন, টিফিনের সময় শিক্ষার্থীরা আইসক্রিম ও ফাস্টফুড কিনতে রাস্তা পার হয়। পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণির ছোট শিশুরাও সড়ক ব্যবহার করে। অনেক সময় তারা ডানে—বামে না তাকিয়েই রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করে। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

 


দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পণ পুরকায়স্থ বলেন, বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় থাকে। মাঝে মাঝে ছোটখাটো সড়ক দুর্ঘটনাও ঘটে। স্পিডব্রেকার থাকলে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে।

 


আরেক শিক্ষার্থী আমান আহমদ বলেন, দুই বিদ্যালয়ের সামনেই স্পিডব্রেকার প্রয়োজন। এখানে ছোট শিশু, শিক্ষার্থী ও বৃদ্ধরা চলাচল করেন। শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

 


রাজগোবিন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দিলদার চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের সামনে স্পিডব্রেকারের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। অভিভাবকরাও বিষয়টি নিয়ে প্রায়ই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ছুটির পর চঞ্চলতার কারণে ছোট শিশুরা অনেক সময় ডানে—বামে না তাকিয়েই রাস্তা পার হতে দৌড় দেয়। তিনি বলেন, সড়কটিতে যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করায় শিক্ষক ও অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন থাকেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিদ্যালয়ের সামনের সড়কের দুই পাশে স্পিডব্রেকার দেওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যালয়ের সামনের গেটও অনেক সময় বন্ধ রাখতে হয়।

 


সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এ কে এম আজাদ মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের দিবা ও প্রভাতি শাখা মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য স্কুলের গেটের দুই পাশে দুটি স্পিডব্রেকার প্রয়োজন। তিনি বলেন, খুব উঁচু স্পিডব্রেকার না হলেও দুই থেকে তিন ইঞ্চি উঁচু করে হাইওয়েতে থাকা স্কেল টাইপের স্পিডব্রেকার করা যেতে পারে। এতে যানবাহনের গতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে।

 

 


তবে স্পিডব্রেকার নির্মাণের বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম কয়েস। তিনি বলেন, স্পিডব্রেকার নিষিদ্ধ। শিক্ষকরা অনেক সময় এ দাবি জানালেও নিষিদ্ধ থাকায় তা নির্মাণ করা হয়নি। তিনি বলেন, এই সড়কে স্পিডব্রেকার দিলে মানুষের চলাচলে কষ্ট হয়। স্পিডব্রেকার থাকলেই যে দুর্ঘটনা কমবে, এমন নয়; কখনো কখনো এতে দুর্ঘটনা আরও বাড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক পারাপারে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। কীভাবে নিরাপদে রাস্তা পার হতে হয়, সে বিষয়ে তাদের সচেতন করতে হবে। তবে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য আগে রাস্তার দুই পাশে জেব্রা ক্রসিং করা হয়েছিল। প্রয়োজন হলে গতিশীল যানবাহনের গতি কমাতে আবারও জেব্রা ক্রসিং করে দেওয়া হবে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আরও বলেন, এটি ছাতক—সুনামগঞ্জ হাইওয়ে সড়ক। তাই এখানে স্পিডব্রেকার দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই। যদি স্পিডব্রেকার বসানোর প্রয়োজন হয়, তাহলে পৌরসভার সভা ও প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার