যে অভ্যাসে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমাবেন

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৫

সংগৃহীত ছবি 

ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে অনেকটাই, শুধু বদলে ফেলতে হবে কয়েকটি অভ্যাস। দৈনন্দিন জীবনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করার মাধ্যমে ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তারা বলেছেন, ক্যানসার শতভাগ প্রতিরোধ সম্ভব না হলেও ক্যানসার সৃষ্টির একাধিক বাহ্যিক ও পরিবেশগত কারণ আমাদের নিয়ন্ত্রণেই থাকে।

 

 

কারণ মরণব্যাধি এ রোগের ঝুঁকি বাড়ছে কিছু অভ্যাসের কারণেই। চিকিৎসকরা বলছেন, ক্যানসার সেরে যাবে কিংবা নির্মূল হবে— এমন নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে কয়েকটি অভ্যাস বদলাতে পারলে ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যাবে।

 

 

কারণ ক্যানসার কখন চুপিসারে শরীরে বাসা বাঁধবে, তা আগে থেকে বোঝা মুশকিল। তা একেবারেই অসম্ভব। ক্লান্তি দিন দিন বাড়লে ভেবেই নেওয়া হয় যে, এটা অতিরিক্ত কাজের চাপের ফল। কিন্তু যিনি ক্রনিক অম্বল-বদহজম, গ্যাস, পেটে যন্ত্রণা কিংবা পেট ফাঁপার সমস্যায় ভোগেন, তিনি কি একবারও ভাবেন যে, এসব লক্ষণ অগ্ন্যাশয় ক্যানসারেরও প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে? 

 

 

আপনার শরীরের ছোটখাটো অস্বস্তি ও অসুখকে এড়িয়ে যাওয়াই বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ ক্যানসারের ভয় যদি দূর করতে হয়, তাহলে প্রতিদিনের কয়েকটি অভ্যাস এখনই বদলে ফেলা উচিত।

 

চলুন জেনে নেওয়া যাক, কোন অভ্যাসে বদল আনবেন—

 

১. ধূমপান 

 

ধূমপান একেবারে ছেড়ে দেওয়া হয়তো সম্ভব নয় অনেকের পক্ষেই। তবে কমিয়ে ফেলতে হবে। দিনে অন্তত ৬টি সিগারেট খেলে, সেই সংখ্যা কমিয়ে আনতে হবে ২টিতে। তামাক ও সিগারেটের ধোঁয়ায় অন্তত ৭০টিরও বেশি কার্সিনোজেন, যা ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান থাকে, যেমন— বেনজিন, ফরম্যালডিহাইড ও নাইট্রোসামিন যা কোষের ডিএনএ গঠনে বাধা দেয়, জিনগত বদলও ঘটায়। ফলে ক্যানসারের কোষ জন্ম নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। ধূমপান ও পরোক্ষ ধূমপান এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

 

২. অ্যালকোহল

 

যদি আপনার অ্যালকোহলের অভ্যাস থাকে তা বন্ধ করুন। কারণ অ্যালকোহল যখন শরীরে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভেঙে যায়, ঠিক তখনই তা ‘অ্যাসিটালডিহাইড’ নামে বিষাক্ত রাসায়নিক যৌগে পরিণত হয়। এটি ডিএনএ প্রোটিনের মারাত্মক ক্ষতি করে। তা ছাড়া অ্যালকোহল আপনার শরীরে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, যা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। অ্যালকোহল ছাড়লে কিংবা মাত্রা সীমিত করলে লিভার, মুখ ও গলা, খাদ্যনালি, অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ও কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।

 

৩. খাবার খাওয়া

 

২৪ ঘণ্টার মধ্যে ১২ থেকে ১৬ ঘণ্টা কিংবা কম করেও ১০ ঘণ্টা পেট ফাঁকা রাখতে হবে। আর রাত ৮টার মধ্যে রাতের খাওয়া শেষ করে পর দিন সকাল ৮টা কিংবা ১০টায় প্রাতঃরাশ করার পরামর্শই দিচ্ছেন গবেষকরা। ওই সময়টাতে শরীরে ‘অটো-ক্লিনিং’ বলে একটি প্রক্রিয়া চলে, যেখানে শরীর নিজেই কোষে জমে থাকা টক্সিন এবং ক্যানসার সৃষ্টিকারী ক্ষতিকর উপাদানগুলোকে ধ্বংস করে ফেলে।

 

৪. ঘুমের নিয়ম

 

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, রাত ১১টার মধ্যে শুয়ে পড়া শরীরের জৈবিক ঘড়ির জন্য ভালো। কারণ রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে শরীরের ডিএনএ মেরামতের কাজটা চলে। তাই প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং রাতে ঘুমানোর সময় শোবারঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখাই বাঞ্ছনীয়। নীল আলো সামান্য মাত্রায় থাকলেও মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ বন্ধ হয়ে যায়। এই মেলাটোনিনই যে কোনো টিউমার কোষের বৃদ্ধি ও বিভাজন ঠেকাতে পারে।

 

৫. প্লাস্টিকের ব্যবহার

 

প্লাস্টিকের বোতল কিংবা পাত্রে গরম খাবার না খাওয়া, নন-স্টিক বাসনের জায়গায় লোহা বা স্টেনলেস স্টিলের বাসন ব্যবহার করা, প্লাস্টিকের ব্যাগ কিংবা টিফিন বাক্সের ব্যবহার কমালে ক্যানসারের ঝুঁকিও কমে যাবে। প্লাস্টিক এবং নন-স্টিক বাসনে বিসফেনল-এ, থ্যালেট, পিএফএএসের মতো রাসায়নিক থাকে, যা হরমোনের গোলমাল ঘটায়, কোষের অনিয়ন্ত্রিত বিভাজনে সহায়ক হয়। এর থেকে স্তন, জরায়ু, ডিম্বাশয় ও থাইরয়েডের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।
সূত্র: যুগান্তর .কম
এমডি

বিশেষ সংখ্যা থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার