আবারও যাচাই করলে স্পষ্টতা আসবে

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৯

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬১৭ জনের মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জনের নিয়োগ আপাতত আটকে গেছে। মেধাক্রমে এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যায়ে বাদ পড়ায় এসব চাকরিপ্রার্থীর মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অধিকতর যাচাই—বাছাইয়ের মানদণ্ড, প্রার্থীদের প্রতি ন্যায়সংগত আচরণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন। এ পরিস্থিতি নিয়ে দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় কথা বলেছেন শিক্ষক নেতা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন খানম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সহযোগী সম্পাদক এনাম আহমদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও ১২০ জনের নিয়োগ আপাতত আটকে গেছে। একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা হিসেবে বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?
নাসরিন খানম: প্রথমে যাচাই—বাছাইয়ের পর তারা উত্তীর্ণ হয়েছেন। পরে আবার নিবিড়ভাবে যাচাই করার পর ১২০ জন বাদ পড়েছেন। শুধু সুনামগঞ্জে নয়, সারাদেশেই এমন ঘটনা ঘটেছে। তবে সুনামগঞ্জে সংখ্যাটি বেশি।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অধিকতর যাচাই—বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মানদণ্ড কী হওয়া উচিত?
নাসরিন খানম: সাধারণত পুলিশ ভেরিফিকেশন, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং শিক্ষাগত সনদ যাচাই করা হয়। সনদগুলো সঠিক ও প্রামাণিক কি না, সেটিও দেখা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পদে শূন্য পদ থাকা প্রয়োজন। সুনামগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় শূন্য পদ কম থাকায় নিয়োগের ক্ষেত্রেও বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মেধাক্রমে এগিয়ে থাকা প্রার্থীরাও বাদ পড়েছেন। তাদের প্রতি বিষয়টি কতটা ন্যায়সংগত?
নাসরিন খানম: প্রাথমিক শিক্ষায় আমরা মেধাবী শিক্ষকদের প্রত্যাশা করি। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের মতো পিছিয়ে থাকা এলাকায় তাদের মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতি হবে—এমন প্রত্যাশা থাকে। তাই মেধাবী প্রার্থীদের নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়া দুঃখজনক। তবে যাচাই—বাছাইয়ের বিষয়গুলো সঠিকভাবে দেখা প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: অনেক প্রার্থীর সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের করণীয় কী?
নাসরিন খানম: যারা বাদ পড়েছেন, তারা পুনরায় তাদের কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য আবেদন করতে পারবেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে আবেদন করে কী কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে, তা জানতে পারেন। প্রয়োজন হলে মহাপরিচালকের কাছেও বিষয়টি উপস্থাপন করা যেতে পারে। পুনরায় যাচাইয়ের পর যোগ্যতা থাকলে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া এই অনিশ্চয়তা কীভাবে দূর করা যায়?
নাসরিন: প্রার্থীদের জানতে হবে কোথায় সমস্যা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জানতে পারেন। সনদ, স্বাস্থ্যগত যোগ্যতা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিষয় আবার যাচাই করা যেতে পারে। এতে প্রার্থীদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টতা আসবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কী করা উচিত?
নাসরিন খানম: নীতিনির্ধারকেরাই এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন। তবে শিক্ষকতা শুধু চাকরি হিসেবে দেখলে হবে না, এটি একটি দায়িত্ব। যারা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নিতে চান, তাদের পাশাপাশি শিক্ষকতাকে দায়িত্ব ও ভালোবাসার জায়গা থেকেও দেখতে হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহী তরুণদের উদ্দেশ্যে আপনার বার্তা কী?
নাসরিন খানম: শিক্ষকতা কারও কাছে চাকরি, আবার কারও কাছে এটি নেশা বা দায়িত্বের জায়গা। যারা শিক্ষকতাকে আন্তরিকভাবে নিতে চান, তাদেরই এ পেশায় আসা উচিত। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। শিক্ষকদের যেন শিক্ষাদানের বাইরে অতিরিক্ত সরকারি কাজে বেশি ব্যস্ত থাকতে না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া দরকার। প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। শিক্ষক নিয়োগের আগে বা নিয়োগের পর দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা আরও বাড়ানো সম্ভব।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার