উন্নত চিকিৎসার অপেক্ষায় সুনামগঞ্জ

প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:০৬

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবন প্রস্তুত থাকলেও এখনও চালু হয়নি। ভবন বুঝে নেওয়া, জনবল নিয়োগ এবং প্রশাসনিক অনুমোদন ও ইকোনমিক কোড নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর ছয় সপ্তাহের মধ্যে আউটডোর চালুর কথা থাকলেও ১১ সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সংবাদ সংযোগ ‘খবরনামা’য় হাসপাতাল চালুর জটিলতা, জনবল, ইকোনমিক কোড ও চিকিৎসাসেবার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মনোয়ার আলী। সঞ্চালনায় ছিলেন দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও ডিজিটাল ইনচার্জ সাইদুর রহমান আসাদ।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভবন প্রস্তুত থাকার পরও হাসপাতাল চালু না হওয়ার মূল বাধা কোথায়?
ডা. মনোয়ার আলী: ভবন প্রস্তুত হলেও অনেক সময় কিছু অপূর্ণতা বা ত্রুটি থেকে যেতে পারে। ভবন বুঝে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কমিটি থাকে। তারা পরিদর্শন করে দেখে ভবনটি সম্পূর্ণ ও ব্যবহার উপযোগী কি না। ত্রুটি না থাকলে দুই পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে ভবন বুঝে নেওয়া সম্ভব। তবে এখানে একটি বিষয় সামনে এসেছে। প্রকল্প পরিচালক বলছেন, জনবল নিয়োগ না হলে তিনি কীভাবে হাসপাতাল বুঝিয়ে দেবেন। আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, হাসপাতাল বুঝে নেওয়া ও ইকোনমিক কোড চালু না হলে আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগসহ অন্যান্য কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করবেন। এখানে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমন্বয়ের বিষয় রয়েছে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ভবন বুঝে নেওয়া আগে, নাকি জনবল নিয়োগ—কোনটি বাস্তবসম্মতভাবে আগে হওয়া উচিত?
ডা. মনোয়ার আলী: আমার মতে, দুটোই একসঙ্গে হওয়া দরকার। শুধু ভবন বুঝে নিয়ে বসে থাকলে হবে না। ভবনের বিদ্যুৎ, স্যানিটেশন, ফার্নিচার, যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন বিষয় রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। দীর্ঘ সময় এগুলো ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ না হলে ভবন ও যন্ত্রপাতির ক্ষতি হতে পারে। ভবন হস্তান্তরের সঙ্গে সঙ্গে জনবল দেওয়া হলে হাসপাতাল চালু করা সহজ হবে এবং রক্ষণাবেক্ষণও করা যাবে। প্রকৃত জনবল আসতে দেরি হলেও ইকোনমিক কোড চালু থাকলে স্থানীয়ভাবে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে লোক নিয়োগ করে অন্তত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো সম্ভব।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: প্রশাসনিক অনুমোদন ও ইকোনমিক কোড না থাকায় হাসপাতাল পরিচালনায় কী ধরনের সমস্যা হতে পারে?
ডা. মনোয়ার আলী: ইকোনমিক কোড থাকলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে লোক নিয়োগ করা যায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চালানো যায়। কিন্তু ইকোনমিক কোড না থাকলে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন। হাসপাতাল চালুর জন্য চিকিৎসক, টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন ধরনের জনবল প্রয়োজন। শুধু ভবন ও যন্ত্রপাতি থাকলেই হাসপাতাল চালু হবে না।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: একদিকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে জনবল সংকট, অন্যদিকে ৫০০ শয্যার এই হাসপাতাল চালু হচ্ছে না। সুনামগঞ্জবাসীর জন্য হাসপাতালটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. মনোয়ার আলী: এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার বিপরীতে সেখানে অনেক সময় ৭০০ থেকে ৮০০ রোগীও থাকে। জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালটি অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। ৫০০ শয্যার হাসপাতাল চালু হলে এই চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে এবং মানুষ চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বর্তমানে জটিল রোগীদের অনেক সময় সিলেটে নিতে হয়।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: দ্রুত আউটডোর ও পর্যায়ক্রমে ইনডোর চালু করতে এখন কী পদক্ষেপ প্রয়োজন?
ডা. মনোয়ার আলী: ভবন বুঝে নেওয়া, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং ইকোনমিক কোড চালুর বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে করতে হবে। শুধু ভবন বুঝে নিলে হবে না; হাসপাতাল চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনাও নিশ্চিত করতে হবে। দুটো একসঙ্গে হলে হাসপাতাল দ্রুত চালু করা সম্ভব হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেবা কি সদর হাসপাতালের সেবার চেয়ে আলাদা?
ডা. মনোয়ার আলী: অবশ্যই। মেডিকেল কলেজের সার্ভিস আর সদর হাসপাতালের সার্ভিস এক নয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বড় বড় চিকিৎসক, বিশেষজ্ঞ ও প্রফেসররা থাকবেন। ফলে এখানে উন্নতমানের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। হাসপাতালটি যত দ্রুত চালু হবে, জনগণ তত দ্রুত এই সেবা পাবেন। এতে চিকিৎসাসেবার যে চাহিদা রয়েছে, তার একটি অংশ পূরণ হবে এবং পরবর্তীতে সেবার পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শুধু রোগীদের চিকিৎসাসেবা নয়, মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও কি হাসপাতালটি গুরুত্বপূর্ণ?
ডা. মনোয়ার আলী: অবশ্যই। এটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। মেডিকেল শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ক্লিনিক্যাল সাবজেক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনাটমি, ফিজিওলজি, ফার্মাকোলজির মতো বিষয়গুলো বই ও ক্লাসের মাধ্যমে শেখানো যায়। কিন্তু হাতে—কলমে বাস্তব শিক্ষা হাসপাতাল ছাড়া সম্ভব নয়। হাসপাতালে শিক্ষার্থীরা রোগীর ইতিহাস নেবে, রোগ নির্ণয়ের বিষয়টি দেখবে এবং কী ধরনের চিকিৎসা দিতে হবে—এসব বাস্তবভাবে শিখবে। তাই মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্যও হাসপাতাল চালু হওয়া জরুরি।

 

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: শিক্ষার্থীরা হাসপাতাল চালুর দাবিতে আন্দোলনও করেছে। বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ডা. মনোয়ার আলী: শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় হাসপাতাল চালুর দাবিতে আন্দোলন করেছে। গত জুলাই মাসেও তারা আন্দোলন করে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ছয় সপ্তাহের সময় নিয়েছিল। কিন্তু সেই সময় পার হয়ে গেছে। তাই হাসপাতালটি দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: ২১৫ জন জনবল অনুমোদিত হলেও নিয়োগ না হওয়ার বিষয়টি কীভাবে দেখছেন?
ডা. মনোয়ার আলী: হাসপাতাল চালু করতে জনবল অপরিহার্য। একটি প্রকল্পে কী কী পদ লাগবে, কতজন প্রফেসর, চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও অন্যান্য জনবল লাগবে—এসব পরিকল্পনা আগে থেকেই থাকার কথা। পদ সৃষ্টি না হলে নিয়োগ দেওয়া বা বেতন দেওয়াও সম্ভব নয়। ভবন নির্মাণে এক থেকে দুই বছর বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদ সৃষ্টি ও জনবল নিয়োগের বিষয়টি একইভাবে দীর্ঘ সময় নেওয়ার কথা নয়। কারণ হাসপাতাল পরিচালনার জন্য কোন বিভাগে কতজন জনবল প্রয়োজন, সেটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই নির্ধারিত থাকে।

 


দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর: সুনামগঞ্জবাসীর জন্য আপনার প্রত্যাশা কী?
ডা. মনোয়ার আলী: হাসপাতালটি যত দ্রুত চালু হবে, তত দ্রুত জনগণ সেবা পাবেন। বিশেষ করে জটিল রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র যেতে হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার্থীরাও হাতে—কলমে ক্লিনিক্যাল শিক্ষার সুযোগ পাবেন।

উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন


সম্পাদক মণ্ডলীর উপদেষ্টা : স্বপন কুমার দেব, কুমার সৌরভ

সম্পাদক ও প্রকাশক : পঙ্কজ কান্তি দে

অনলাইন সম্পাদক : মাহবুবুল হাছান শাহীন

সম্পাদক কর্তৃক অক্ষর মুদ্রণ অফসেট প্রেস, জোয়াহের রাজা ট্রেড সেন্টার, পুরাতন বাসস্টেশন, সুনামগঞ্জ।

মোবাইল : ০১৭১৮৩৪৫৯৭৫

বিজ্ঞাপন : ০১৩২৫৪৬২৪৯৫

ই-মেইল : [email protected]

সুনামগঞ্জের খবর পরিবার