প্রকাশিত: ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৮
ছাতক রেলওয়ের একটি পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে ছুটির দিনে মাটি খুঁড়ে মাটির নিচে থাকা মূল্যবান তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন রেলওয়ে কর্মীর বিরুদ্ধে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিনের বেলায় রেলওয়ের কয়েকজন কর্মী ওই স্থানে মাটি খোঁড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, সেখানে ‘আর্থিং লিক’ হওয়ায় মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তামার তার কাটার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে দাবি করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছাতক রেলওয়েতে একসময় বড় একটি ট্রান্সফরমার ছিল। পরে সেটি সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তুলনামূলক ছোট একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে ওই ছোট ট্রান্সফরমারটিও বিকল বা নষ্ট অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
শনিবার ছুটির দিনে ওই পুরোনো ট্রান্সফরমারের স্থানে রেলওয়ের আমির হোসেন (মেকানিক্স), জাহাঙ্গীর আলম (সহকারী সাপ্লাইসার), রেজাউল করিম (সহকারী ফিটার) ও দেলোয়ার হোসেন (লাইনম্যান, অবসরপ্রাপ্ত) সহ কয়েকজনকে মাটি খুঁড়তে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজুর রহমান বলেন, ‘আর্থিং লিক’ মেরামতের কথা বলে রেলওয়ের কর্মীরা সেখানে মাটি খোঁড়েন। পরে মাটির নিচে থাকা তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। তবে ওই তার কোথায় নেওয়া হয়েছে বা কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে জানান।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, ট্রান্সফরমারটি যদি বর্তমানে বিকল বা অচল অবস্থায় থাকে, তাহলে তার আর্থিং মেরামতের প্রয়োজন হলো কেন? আর ‘আর্থিং লিক’ মেরামতের জন্য মাটি খুঁড়তে গিয়ে মাটির নিচে থাকা তামার তার কেটে বা তুলে নেওয়ার প্রয়োজনই বা ছিল কি না— এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, রেলওয়ের বিদ্যুৎ সংযোগের বিপরীতে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে নিয়মিত মাসিক বিদ্যুৎ বিল আসে। ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বর্তমান কার্যকারিতা এবং সেখানে মাটি খোঁড়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আরও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে মাটি খোঁড়ার সময় ঘটনাস্থলে ইলেকট্রিক ফোরম্যান উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে ইলেকট্রিক ফোরম্যান মো. আসাদুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সেখানে আর্থিং লিক হয়েছিল। সেটি ঠিক করার কাজ করা হয়েছে। তবে মাটির নিচ থেকে তামার তার কাটার বিষয়ে আমি কিছু জানি না।
অভিযোগের বিষয়ে ছাতকবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আহসান হাবিব বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আর্থিং মেরামতের কথা বলে মাটি খুঁড়ে যদি তামার তার বের করা বা কেটে নেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কী কারণ ছিল তা তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কার নির্দেশে মাটি খোঁড়ার কাজ করা হয়েছে, সেখানে কী ধরনের বৈদ্যুতিক ত্রুটি ছিল, আর্থিং লিক শনাক্তে কোনো কারিগরি পরীক্ষা বা প্রতিবেদন করা হয়েছিল কি না এবং মাটি খোঁড়ার পর তামার তারের কী হয়েছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের আরও দাবি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মাটির নিচে থাকা বৈদ্যুতিক তারের বর্তমান অবস্থা, সংশ্লিষ্ট ট্রান্সফরমারের কার্যকারিতা এবং মাটি খোঁড়ার অনুমোদন ও কাজের নথিপত্র যাচাই করা হলে অভিযোগটির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
উপজেলার খবর থেকে আরো পড়ুন